কলকাতা: বিদ্রোহী হয়েছেন, তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ‘মন খারাপ’ সাংসদের! তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির আবহে মানসিক ও নৈতিক দিক থেকে দ্বিধায় ভুগছেন অভিনেত্রী তথা চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy)। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রতি মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে মনে করি। কিন্তু আবেগের দিক থেকে, নৈতিকভাবে আমি ভুল”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি বলতে চান, প্রশ্ন করা হলে শতাব্দীর আবেগঘন উত্তর, “আই মিস ইউ দিদি”!
বর্তমানে বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ডেপুটি হিসেবে কাজ করছেন শতাব্দী (Shatabdi Roy)। সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এই আবহে শতাব্দীর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আরও এক তারকা তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। চারবারের সাংসদের দাবী, ‘গত কয়েক বছরে দিদি বদলে গিয়েছিলেন।’
সাংসদদের কথা শোনা হত না বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের মধ্যে সাধারণ সাংসদদের কথা শোনার কোনও পরিবেশই ছিল না। “মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু সেই সুযোগ পাইনি। শুধুমাত্র বাছাই করা কয়েকজন নেতারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল,” বলেন তিনি।
শতাব্দীর (Shatabdi Roy) অভিযোগ, শুধু তিনিই নন, বিদ্রোহী শিবিরে থাকা অন্যান্য সাংসদদেরও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের মন্ত্রীদের কাছেও সাধারণ সাংসদদের মতামত জানানোর সুযোগ ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনও আলোচনা হত না, বরং প্রশ্ন তুললেই চুপ করে থাকতে বলা হত। দলের দুর্বল সময়ে কেন তাঁরা মুখ খুলছেন, সেই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন শতাব্দী (Shatabdi Roy)। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের অন্দরের বাস্তব ছবি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিজের কেন্দ্রের মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।


