27 C
Kolkata
Saturday, May 30, 2026
spot_img

বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট! সরকারি পরিষেবা ভেঙে বেসরকারিকরণের চেষ্টা রাজ্যের ?

Aaj India Desk, কলকাতা : দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য কামারপাড়া এলাকায় টানা সাত দিন বিদ্যুৎ না থাকার (Power Cut) অভিযোগে শনিবার বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিতে অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। অন্যদিকে সোনারপুর দক্ষিণ এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক গ্রামীণ এলাকায় রোজ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। কিন্তু এই বার বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ কি ?

কেনো হচ্ছে এই পরিস্থিতি ? 

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রায়শই দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট(Power Cut), বিকল ট্রান্সফরমার এবং মেরামতে বিলম্ব নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির পর বহু জায়গায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত থাকার ঘটনা নতুন নয়। বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুরনো পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং বাড়তে থাকা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সাধারণ কারণগুলির মধ্যে উঠে এসেছে –

  • রক্ষণাবেক্ষণের অভাব: নিয়মিত পরিদর্শন ও মেরামতির ঘাটতির ফলে যথাযথ সময়ে বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না।
  • লোড ম্যানেজমেন্ট ও সরবরাহ সংকট: চাহিদা বেড়ে গেলে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করা হয়। সেক্ষেত্রে সাধারণ ভাবে শহরকে প্রাধান্য দিয়ে গ্রামের বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • বিনিয়োগের ঘাটতি: শহরের তুলনায় গ্রামে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ কম হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
  • পরিকাঠামোর ক্ষতি: বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়া ও নতুন পরিকাঠামো তৈরি করার চেষ্টা না করায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতেই থাকে।

বেসরকারিকরণের পথে বিজেপি সরকার ? 

দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট (Power Cut) ও পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের জেরে একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি পরিষেবার দুর্বলতা কি ভবিষ্যতে বেসরকারিকরণের পক্ষে জনমত তৈরি করছে? কেন্দ্রের বিজেপি সরকার গত এক দশকে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদ্যুৎ আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বেশি বেসরকারি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টাও করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এতে প্রতিযোগিতা বাড়বে, পরিষেবার মান উন্নত হবে এবং লোকসানে চলা সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির উপর চাপ কমবে।

বিজেপি সরকারের শাসনকালে দেশ জুড়ে আদানি, অম্বানি, টাটা, টরেন্ট, সিইএসসি-সহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতিও বাড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ বাড়লে তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের উপর। লাভের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে বিদ্যুতের শুল্ক বৃদ্ধি, বিভিন্ন পরিষেবা বাবদ অতিরিক্ত চার্জ এবং ভর্তুকি কমানোর পক্ষে চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন