কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। দাবি, সেখানে সে সিটের সদস্য রনি সরকারের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই পরিস্থিতিতে সিটের অপর সদস্য অর্ঘ্য মণ্ডল আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালান (Baruipur Encounter)। এই এনকাউন্টার নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা চলছে।
সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনার তদন্ত কীভাবে হবে? কারণ, সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উভয়েরই স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, পুলিশি এনকাউন্টারে (Baruipur Encounter) কারও মৃত্যু হলে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এনকাউন্টারে জড়িত পুলিশকর্মীরা নিজেরা সেই ঘটনার তদন্ত করতে পারেন না। তদন্তের দায়িত্ব দিতে হয় অন্য কোনও থানার পুলিশ, বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিআইডির মতো স্বাধীন সংস্থাকে। মানবাধিকার কমিশনের গাইডলাইনেও একই ধরনের নিরপেক্ষ তদন্তের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম মেনেই তদন্তভার সিআইডির হাতে
এই নির্দেশিকাগুলির কথা মাথায় রেখেই বারুইপুর এনকাউন্টারের (Baruipur Encounter) তদন্তভার সিআইডির (CID) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সিআইডি এখন ঘটনাস্থলের প্রমাণ, অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের নথি খতিয়ে দেখবে।
এখন কী হবে?
তদন্তকারীরা এখন দেখবেন:
-
প্রভাস সত্যিই অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়েছিল কি না,
-
পাল্টা গুলি চালানোর পরিস্থিতি কতটা অনিবার্য ছিল,
-
পুলিশি প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না,
-
এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল।
সিআইডির (CID) তদন্ত রিপোর্টই এখন নির্ধারণ করবে বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির কতটা ভিত্তি রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে পারে।


