Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : জনগণের তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষিত করতে ২০০৫ সালে চালু হয়েছিল RTI বা Right to Information Act। এই আইনের অধীনে জনস্বার্থ সম্পর্কিত যে কোনো সরকারি তথ্য জানতে পারেন সাধারণ মানুষ। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনায় সেই আইন থাকতেও তার বাস্তবতা ঘিরে উঠল প্রশ্ন।
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি কেরলের তিরুবনন্তপুরম স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী তিনটি অমৃত ভারত ট্রেন ও একটি যাত্রী ট্রেন উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠান হয় কেরল বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে। এই ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নাম ও মোট খরচের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে RTI করেন এক নাগরিক।
তবে রেলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য জানাতে অস্বীকার করা হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা সংস্থার নাম প্রকাশ করলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মন্তব্য করে ভারতীয় রেলওয়ে। RTI আইনের ধারা ৮(১)(a), ৮(১)(g) এবং ৮(১)(j) অনুযায়ী এই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। আবেদনকারী আপিল করলেও একই অবস্থান বহাল রাখা হয়। প্রশাসনিক মহলের মতে, আরটিআই আইনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত দেশের নিরাপত্তাজনিত তথ্য গোপন রাখার বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকের মত, সরকার জনগণের করের অর্থ ব্যয় করলে সেই তথ্য জনসমক্ষে আনা উচিত। রেলের অনুষ্ঠানের ব্যয় করা অর্থের তথ্য আদৌ কিভাবে দেশের নিরাপত্তায় আঘাত করবে তা নিয়েও কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা।
বাস্তবিক সরকারি অনুষ্ঠানে জনগণের অর্থ ব্যয় হলে সেই তথ্য নাগরিকদের কাছে পৌঁছানোই RTI আইনের মূল উদ্দেশ্য। এই ঘটনায় সেই অধিকার কতটা রক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় হওয়া অর্থের তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী। জনগণের করের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা জানা জনগণের মৌলিক অধিকার। জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।


