Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় নির্ধারিত ভোটাভুটির আগে এক ভিন্ন বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। নারীশক্তিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক অধিকারেই সীমাবদ্ধ রাখলেন না, জুড়ে দিলেন দেবীশক্তির ভাবনার সঙ্গেও।সকালে নিজের X হ্যান্ডলে মোদীর বার্তা ভারতের পরিচয়, তার শক্তি, তার অগ্রগতি সব কিছুর কেন্দ্রে রয়েছে নারীশক্তি। এই শক্তিকেই তিনি তুলনা করেছেন দেবীর ঐশ্বরিক ক্ষমতার সঙ্গে, যা যুগে যুগে ভারতীয় সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ে তুলেছে।ভোটের আগে এই বার্তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক ও আবেগঘন আবেদন বলেই মনে করছেন অনেকেই। যেখানে নারী কেবল ভোটের অঙ্ক নয়, বরং দেশের আত্মার প্রতীক এমন এক ভাবনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৩ সালে সংসদের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। লোকসভায় Lok Sabha Debate-এর মধ্য দিয়ে পাশ হয় নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম যে বিল বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।তবে আইন হয়ে গেলেও বাস্তবে তার পথ এখনও পুরোপুরি মসৃণ হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, নতুন করে জনগণনা হবে, তারপর আসন পুনর্বিন্যাস । সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই লোকসভা ও বিধানসভাগুলির প্রায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে।অর্থাৎ কাগজে-কলমে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দরজা খুললেও, মাটিতে তার বাস্তবায়নের চাবিকাঠি এখনও সময়ের হাতেই। এখন দেখার, সেই প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবের মঞ্চে পূর্ণ রূপ পায়।
বৃহস্পতিবার থেকেই সংসদে শুরু হয়েছে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। লোক সভা ( Lok Sabha)-তে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র।তবে এই পদক্ষেপ ঘিরেই জোরালো বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করেই তাড়াহুড়ো করে এগোতে চাইছে সরকার। ২০১১ সালের পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে চাইছে বলেই তাদের দাবি। এই ইস্যুতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress এবং Samajwadi Party)-সহ একাধিক বিরোধী দল। তাদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো নয়, প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও হালনাগাদ তথ্যের উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ। ফলে, নারী সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস দুই ইস্যু মিলিয়ে সংসদের অন্দরে এখন রাজনীতির তাপমাত্রা তুঙ্গে।


