Aaj India Desk, কলকাতা: অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আলিপুরের ‘উত্তীর্ণ’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাধিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে নিজের সরকারের অবস্থান জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সন্ত-সাধু ও ধর্মপ্রচারকদের নিয়ে সরকারের অবস্থান, রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালু এবং গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার মতো একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “যতদিন আমি মুখ্যমন্ত্রী আছি, ততদিন কোনও সন্ত-সাধু, ধর্মপ্রচারকের অপমান হবে না।” গেরুয়া শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভাবনা ও তার মর্মার্থকে আক্রমণ করারও অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রবিরোধী বা ‘হিন্দুস্তান-বিরোধী’ কোনও কাজ তাঁর সরকার হতে দেবে না।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মানুষকে মন খুলে গীতা পাঠ এবং মা তুলসীর আরাধনা করার আহ্বান জানান। পুজোর সময় পঞ্জিকা মেনেই নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এর পাশাপাশি রাজ্যে UCC চালু করার সময়সীমা নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। আগামী ছ’মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে UCC চালু করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, UCC কার্যকর হলে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ধর্মান্তরের মতো বিষয় বন্ধ করা সম্ভব হবে।
গঙ্গাসাগর মেলা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় কর্মসূচির কথাও জানান শুভেন্দু। আগামী ১৭ নভেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ২০ হাজার মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করা হবে। এরপর ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ মানুষকে নিয়ে গীতা পাঠের কর্মসূচি হবে বলেও জানান তিনি।
২০২৬ সালের রামনবমী এবং গণেশপুজো নিয়েও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রামনবমীতে দেড় কোটি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যে ৩০ হাজারের বেশি গণেশপুজো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অশোক সিংঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিশেষ লেখা প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন অশোক সিংঘল। ১৯২৬ থেকে ২০২৬—তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয়েছে।


