Aaj India Desk,কলকাতা: বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রয়াত নেতা অশোক সিংঘলের (Ashok Singhal) জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক বিষয়ে নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাধু-সন্তদের সম্মান থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর নিয়ম এবং রাজ্যের তীর্থ পর্যটন বিভিন্ন বিষয়ে এদিন একাধিক বার্তা দেন তিনি।
বাগেশ্বর বাবা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সম্প্রতি ভবানীপুর থানার (Bhawanipur Police Station) সামনে ধর্মপ্রচারক ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর (Dhirendra Krishna Shastri), যিনি বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba) নামে পরিচিত, ছবি পোড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু জানান, কোনও ধর্মপ্রচারকের বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করা হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যে কোনও সাধু-সন্ত বা ধর্মপ্রচারকের অসম্মান সরকার মেনে নেবে না। তাঁর মতে, ধর্মীয় বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য কাউকে অপমান করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের (South Kolkata District Congress) সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে (Atanu Das) গ্রেফতার করেছিল ভবানীপুর থানার পুলিশ। পরে অবশ্য জামিন পান তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar) রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়ন’-এর অভিযোগ তুলেছিলেন।
১০০০ কোটির তীর্থক্ষেত্র সার্কিট
অনুষ্ঠান থেকেই বড়সড় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা খরচ করে রাজ্যে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি গো-মাতা রক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গীতা বিতরণ, বেদচর্চা বা তুলসী সেবার মতো ধর্মীয় কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিলে সরকার তা দেখবে।
দুর্গাপুজোয় একাধিক নিয়ম
আগামী দুর্গাপুজো নিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু। অষ্টমীর দিন রাজ্যে সম্পূর্ণ মদ বিক্রি বন্ধ রাখার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে পুজোর সময় নির্ধারণে পঞ্জিকার বিধি এবং শাস্ত্রীয় রীতিকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতিতে একটি বড় কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সবশেষে রাজ্যে রাষ্ট্রবিরোধী বা ‘হিন্দুস্তানবিরোধী’ কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।


