26.2 C
Kolkata
Tuesday, July 21, 2026
spot_img

ফুটপাত থেকেই বিজেপিকে হারাব’ — ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেকের হুঁশিয়ারি

Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ভেঙে যাওয়ার পর এ বারই প্রথম ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস (Sahid Divas) পালন করল দল। তাই এ বছরের সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। আগে যে মঞ্চ থেকে মূলত বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাত তৃণমূল, এ বার সেই মঞ্চে দলের ভাঙন থেকে তৈরি হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হল। বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে আয়োজিত সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পর বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি দলত্যাগীদের কটাক্ষ করার পাশাপাশি বিজেপি (BJP), রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)-ও আক্রমণ করেন।

বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে আয়োজিত সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলত্যাগীদের কটাক্ষ করার পাশাপাশি বিজেপি, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন।

ভাষণের শুরুতেই অভিষেক বলেন, নানা বাধা সত্ত্বেও ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি বন্ধ করা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক শক্তি, কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বা পুলিশ ব্যবহার করে মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। সভায় মানুষের ভিড়ই তার প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি।

অভিষেকের কথায়, বিজেপির হাতে কেন্দ্রীয় সরকার, ক্ষমতা এবং পুলিশ থাকলেও বাংলার মানুষের সমর্থন তাদের সঙ্গে নেই। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ জানেন বিজেপি কীভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তাই সেই বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, তৃণমূল কোনও দিন রাজনৈতিক লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবে না। তাঁর বক্তব্য, “আমরা ফুটপাতে থেকেও লড়াই করব এবং বিজেপিকে হারাব। দেখি তারা কী করতে পারে।”

এরপর তিনি নাম না করে মেয়ো রোডে আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “পাঁচ ওয়াট, দশ ওয়াটের বাল্ব এখন ভাবছে তারা হ্যালোজেন হয়ে গেছে।” দলত্যাগীদের উদ্দেশে আরও তীব্র মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গদ্দাররা ওই শিবিরে গেছে। ওদের বেশি কিছু বলার দরকার নেই।”

অভিষেক এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের একমাত্র শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলের রাজনৈতিক শক্তি ও কর্মীদের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাআমাদের শক্তির উৎস। তিনি যেখানে আছেন, মানুষের সমর্থনও সেখানেই রয়েছে।”

দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিষেক বলেন, কেউ যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে তৃণমূলকে দুর্বল করার কথা ভাবেন, তবে তিনি ভুল করছেন। তাঁর দাবি, এতে দল আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার মাটি থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার লড়াই চলবে। তিনি বলেন, “বাংলা থেকে বিজেপিকে উৎখাত করব। দেখি তাদের কত ক্ষমতা আছে। জেলে ভরুক, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাক, তবু আমরা মাথা নত করব না।”

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, “আমার মেরুদণ্ড বিক্রির জন্য নয়।”

সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশেও আবেগঘন বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, যারা এ দিন সমাবেশে এসেছেন, তারা ভয়কে উপেক্ষা করেই এসেছেন। তাঁদের সাহসকেই তিনি তৃণমূলের আসল শক্তি বলে উল্লেখ করেন।

ভাষণের শেষে অভিষেক বলেন, “আজ যারা এই সভায় এসেছেন, তাঁদের বুকের পাটা আছে। প্রাণ হাতে করেই তাঁরা এখানে পৌঁছেছেন। তাই আজ মনে হচ্ছে, নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী চল্লিশ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে।”

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন