26.7 C
Kolkata
Thursday, August 6, 2026
spot_img

“আর কতদিন ?” আরজিকর মামলায় তদন্তের ধীর গতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ আদালতের!

Aaj India Desk, কলকাতা : আরজি কর (RG Kar Case) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের বহুচর্চিত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে এবার কার্যত বিস্ফোরক কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্তের অগ্রগতি, প্রমাণ যাচাই এবং ঘটনার পুনর্গঠন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আগের তদন্তের সীমাবদ্ধতা ভুলে গোটা ঘটনার পূর্ণ পুনর্গঠন করে নতুন করে তদন্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ে সিবিআই। আদালতের সরাসরি প্রশ্ন, “এতদিন কেটে যাওয়ার পরও তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে? বিচারপ্রক্রিয়া এখনও কেন কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছল না?” বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নির্যাতিতার পরিবার যেমন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়, তেমনই গোটা রাজ্যের মানুষের চোখও এই মামলার দিকে। সেই পরিস্থিতিতে তদন্তের এই ধীরগতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআইয়ের জমা দেওয়া রিপোর্টের দিকেই আঙুল তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সেই রিপোর্ট থেকেই প্রমাণ নষ্ট হওয়া এবং মৃতদেহ টেনে আনার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপরই সিবিআইয়ের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির কড়া প্রশ্ন, “আমরা আগে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আপনারা নাকি সেটা বুঝতেই পারেননি! এটা কীভাবে সম্ভব?” আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত পুনর্গঠন করে নতুনভাবে তদন্ত চালাতে হবে এবং আগের তদন্তে কোথায় কোথায় ত্রুটি হয়েছে, তা খুঁজে বের করে সংশোধন করতে হবে।

নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ও তদন্তের একাধিক ফাঁক আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক নৈশভোজ করেছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জনের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা, পাশাপাশি আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ সবকিছুই নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই আদালতে দাবি জানানো হয়।

সিবিআইয়ের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতকে জানান, নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার নৈশভোজ করা জুনিয়র চিকিৎসকের বয়ান এখনও রেকর্ড করা যায়নি। তবে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তদন্তের খামতি সংশোধন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তদন্ত সম্পূর্ণ করতে আদালতের কাছে আরও সময় চান।

কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি শম্পা সরকারের তীব্র মন্তব্য, “তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” শুধু তাই নয়, মৃত্যুর প্রকৃত সময় নির্ধারণে সিবিআই আদৌ নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত।

শুনানির শেষ লগ্নে হাইকোর্ট আরও কড়া বার্তা দেয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির ওপর সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছি।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ এবার বিচারপতিদের নজরে থাকবে।

দীর্ঘ শুনানির শেষে মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৮ অগস্ট। ওই দিন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার পুনর্গঠনের অবস্থা এবং গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন