Aaj India Desk, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি (BJP)-র প্রতিশ্রুতি গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল অনুপ্রবেশ রোখা এবং চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের (Intruders) সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানো। ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), শুভেন্দু অধিকারী থেকে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)- প্রায় সব বিজেপি নেতাই এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এরপর ৪ তারিখ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সেই পরিকল্পনা মেনেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৈরি করা হয়েছে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার (Holding Centre)। সেখানে রাখা হচ্ছে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই কেন্দ্রগুলি থেকেই ধাপে ধাপে ‘পুশব্যাক’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের বারুইপুর, সুন্দরবন, বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও কৃষ্ণনগরের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মালদা, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও তৈরি হয়েছে এই আটক কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে মোট ৩৮৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক রয়েছেন বসিরহাট পুলিশ জেলায়।
এক নজরে দেখেনিন কোন জেলায় কতজন করে আটক রয়েছে-
১.সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে বসিরহাট জেলায়। সেখানে ৩টি হোল্ডিং সেন্টারে মোট ৩৩৫ জনকে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে, ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন মহিলা এবং ৮৮ জন শিশু।
২. মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা হোল্ডিং সেন্টারে ১৯ জন পুরুষকে আটক রাখা হয়েছে।
৩. দক্ষিণ দিনাজপুরের হোল্ডিং সেন্টারে ৮ জন অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন।
৪. মালদার হোল্ডিং সেন্টারে আটক রয়েছেন ৯ জন।
৫. বনগাঁর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ১ জনকে।
৬. বারাসাত হোল্ডিং সেন্টারে আটক হয়েছেন ৩ জন।
৭. কোচবিহারের হোল্ডিং সেন্টারে আটক রয়েছেন ২ জন।
৮. জঙ্গিপুরের হোল্ডিং সেন্টারে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
৯. কৃষ্ণনগরের হোল্ডিং সেন্টারে আটক রয়েছেন ১ জন।
১০. বারুইপুরের হোল্ডিং সেন্টারে ৫ জনকে রাখা হয়েছে।
১১. সুন্দরবনের হোল্ডিং সেন্টারে আটক রয়েছেন ১ জন।
এই প্রসঙ্গে, বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ে প্রায় প্রতিদিন অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসত। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং অনেকেই নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন।” তাঁর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজ্যে ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করেছে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হল অবৈধভাবে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা যেন স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যান।”
অমিত শাহ আরও জানান, “কেউ যদি নিজে থেকে ফিরে যেতে চান, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবে না। বরং ফিরে যেতে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হবে।” তাঁর আশা, “শনাক্তকরণ অভিযান পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই অনেক অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাবেন।”


