Aaj India Desk, কলকাতা : দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে (Indranil Sen) গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারির পরেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল সেন নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।
কার প্রতি ইঙ্গিত শুভেন্দুর ?
ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen) গ্রেপ্তারির পর সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উনি একা খেয়েছেন, এটা ভাবা ভুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাইয়ে খেয়েছেন।” তাঁর আরও দাবি, তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং আগামী দিনে আরও বড় জায়গায় তদন্তকারীদের হাত পৌঁছতে পারে। শুভেন্দুর অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ইন্দ্রনীলের অ্যাকাউন্ট থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পৌঁছেছিল।
কী অভিযোগে গ্রেপ্তার ইন্দ্রনীল?
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে পুজোর প্রিভিউ শো এবং ভিআইপি পাস বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। এই ঘটনায় কলকাতার বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।
বুধবার ইডির তলবে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন ইন্দ্রনীল সেন। এদিন জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং বিধাননগর কমিশনারেটের আধিকারিকদের উপস্থিতি নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) গ্রেফতারির পর শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রি ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, অন্যদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগের দাবি, সব মিলিয়ে নজর এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


