Aaj India Desk, কলকাতা : সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুন থেকেই মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বহু মহিলা যাত্রী যেখানে স্বস্তি পেয়েছেন, ঠিক সেই সময়েই বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক সরকারি বাস চালক। একটি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে জুন মাসের ১৩ দিন কেটে গেলেও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার কর্মীদের বেতন মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা ও কর্মীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যে। (Bus Driver Salary)
ভিডিও বার্তায় ওই চালক বলেন, ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে ভাড়া মকুব করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। তবে এর পরেই তিনি অভিযোগ করেন, পরিষেবা চালু হওয়ার ১২ দিন পরেও কর্মীদের বেতন মেলেনি। ফলে সংসার চালাতে তাঁদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, “১২ দিনের মাইনে পাইনি আমরা, সাউথ বেঙ্গল এর কর্মীরা। এভাবে চললে বউ-বাচ্চা নিয়ে গলায় দড়ি দিতে হবে। এছাড়া উপায় নেই আমাদের।”(Bus Driver Salary)
বেতন বকেয়ার অভিযোগের পাশাপাশি বাস চালকের বক্তব্যে উঠে এসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভও। বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একাংশের বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত হয়, যেখানে চালক ও কন্ডাক্টররা সরাসরি সরকারি কর্মী নন; বরং বেসরকারি অপারেটর বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই ব্যবস্থায় চাকরির নিরাপত্তা কম, বেতন প্রদানে অনিশ্চয়তা থাকে এবং সরকারি কর্মীদের মতো সামাজিক সুরক্ষা বা পরিষেবাগত সুবিধাও মেলে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট চালক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা তুলে দিয়ে পরিবহণ দপ্তরের অধীনে সরাসরি নিয়োগের দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাতে কর্মীদের নিয়মিত বেতন ও চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। (Bus Driver Salary)
ঘটনার পর বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী বাম শিবিরের একাংশ প্রশ্ন তুলছে, পরিবহণ ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সম্প্রসারণ কি ধীরে ধীরে সরকারি পরিষেবাকে বেসরকারিকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? তাদের দাবি, সরাসরি সরকারি নিয়োগের পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ বাড়লে চাকরির নিরাপত্তা ও কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও সরকার বা পরিবহণ দপ্তরের তরফে এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।


