Aaj India Desk, উত্তর দিনাজপুর: বাড়ির বারান্দায় চৌকির উপর ঘুমিয়ে ছিলেন, ঘরের ভিতরেই ছিলেন তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, সেই রাতেই নিঃশব্দে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ক্যাম্পে। জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশী থেকে পরিবার সকলেই তাঁর নাগরিকত্বের ভুরি ভুরি নথি প্রমাণ সামনে আনলেও এখনও মুক্তি পাননি জলিল আখতার (Jalil Akhtar)।
গভীর রাতে কী ঘটেছিল জলিলের সাথে ?
পরিবার ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য, জলিল বাড়ির বারান্দায় চৌকিতে ঘুমিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী ঘরের ভিতরে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমানের দাবি, পুলিশ নিঃশব্দে এসে জলিলকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের কাউকে ডাকতে চাইলে তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর অভিযোগ। পরেরদিন সকালে জলিলকে (Jalil Akhtar) না পেয়ে শুরু হয় খোঁজ। পরে পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে পরিবার জানতে পারে, তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
নথি নিয়ে পুলিশের দরজায় পরিবার
এরপর জলিলের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক নথি জোগাড় করা হয়। ভোটার কার্ড, আধার, রেশন কার্ড, পঞ্চায়েতের নথির পাশাপাশি ১৯৫০-এর দশকের ভোটার তালিকায় জলিলের পূর্বপুরুষদের নাম থাকার প্রমাণও তাঁরা সংগ্রহ করেন বলে দাবি। প্রতিবেশীরাও দাবি করেন যে জলিল ছোট থেকেই এখানকার বাসিন্দা এবং কোনো দিন বাংলাদেশ যাননি। পরিবারের বক্তব্য, এরপরে ইসলামপুরের পুলিশ আধিকারিক এবং ডালখোলা থানার আইসির কাছে নথিগুলি জমা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দু-এক দিনের মধ্যে জলিলকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
‘৫০০ জনের তালিকা’ নিয়ে গোলমাল ?
পরিবারের দাবি, ডালখোলা থানার আইসি তাঁদের বলেছিলেন, ‘ধরে দেওয়ার’ জন্য তাঁকে ৫০০ জনের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৫০টি নাম এসেছে। তবে ওই তালিকা কারা তৈরি করেছে বা তার ভিত্তি কী, সে বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা পরিবারের কাছে নেই। এদিকে জলিলকে প্রথমে ফুলবাড়ি এবং পরে চাকুলিয়ার হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছিল বলে পরিবার জানতে পারে।
আদালতে পুলিশের মিথ্যে দাবি ?
২০ জুলাই জলিলের (Jalil Akhtar) মুক্তির দাবিতে রসাখোয়ার হাটে তিনশোর বেশি মানুষ জমায়েত হলেও পুলিশ মিছিল করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবার। পরদিন চাকুলিয়া হোল্ডিং সেন্টারে গিয়ে পরিবার জানতে পারে, জলিল সেখানে নেই। এর পরেই ইসলামপুর আদালতে তাঁকে তোলা হয়। পরিবারের দাবি, পুলিশ আদালতে জানায়, জলিলকে মাত্র একদিন আগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুরের বাসিন্দা। ‘ভেরিফিকেশন’ চলছে বলে জানিয়ে পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়।
পরিবারের তরফে ফের আদালতে নাগরিকত্বের নথি জমা দেওয়া হয়েছে। অথচ আগস্ট শেষ হয়ে গেলেও পুলিশের তথাকথিত যাচাই এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে, দীর্ঘ আটকাবস্থায় জলিলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিজনেরা। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


