Aaj India Desk, কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে (Camac Street Case) পুলিশের পাঠানো নোটিস মেনে মঙ্গলবার শেক্সপিয়ার সরণী থানায় হাজির হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। সেই নোটিস অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল তাঁকে। নির্ধারিত সময়ের কিছু পর, বেলা ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ থানায় পৌঁছন অভিষেক।
সরকারি কাজে থাকা পুলিশকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে যে মামলা হয়েছে, সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর অফিসের উপরের একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিলবোর্ড সরাতে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা সেখানে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিষেকের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগ সামনে আসে। এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। এরপরই শেক্সপিয়ার সরণী থানায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। মামলায় একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এফআইআরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুমিত রায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের নাম রয়েছে।
অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে বুধবার থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সোমবার ডেরেক ও’ব্রায়েনকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে হাজির হননি। আইনজীবীর মাধ্যমে ইমেল পাঠিয়ে তিনি ওই দিন থানায় যেতে পারবেন না বলে পুলিশকে জানান। এরপর তাঁকে আগামী বৃহস্পতিবার হাজির হওয়ার জন্য নতুন করে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সোমবার রাতেই বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে পৌঁছে তাঁদেরও নোটিস দিয়েছে পুলিশ। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের এই ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে এখন একের পর এক তৃণমূল নেতার নাম সামনে আসছে। গোটা ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


