Aaj India Desk, বীরভূম : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের রামপুরহাটে। মঙ্গলবার কুসুম্বা গ্রামের বাড়ির দোতলা থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে রাজ্য পুলিশ। (Brishti Mukherjee Death News)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের ১ নম্বর ব্লকের কুসুম্বা গ্রামে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ২৮ বছর বয়সী বৃষ্টি। মঙ্গলবার বাড়ির দোতলা থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। (Brishti Mukherjee Death News)
বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় স্থানীয় একটি স্কুলে গ্রুপ সি কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় বাতিল হওয়া গ্রুপ সি নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসে। তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা নথি ও আদালতের মামলার সূত্রে তাঁর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর তিনি চাকরি হারান। তবে সেই সময় সংবাদমাধ্যমে তাঁর বাবা নীহার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বৃষ্টি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি বেতনও নেননি। ফলে তাঁর চাকরি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সময়ে নানা তথ্য সামনে এসেছিল। (Brishti Mukherjee Death News)
বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের বাবা নীহার মুখোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই। তিনি রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এই পারিবারিক পরিচয়ের কারণেই ২০২৩ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বৃষ্টির নাম প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বৃষ্টির সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পারিবারিক সমস্যা বা মানসিক অবসাদকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে এখনই চিহ্নিত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।


