Aaj lndia Desk, কলকাতা: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি হাজির না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মঙ্গলবার নিমতৌড়িতে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরে রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। ভোট পরিচালনার নিয়ম, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
বৈঠকে তৃণমূলের ‘অনুপস্থিতি’ই নজরে
বৈঠকে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূলের কাউকে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে দলের এই অনুপস্থিতির পিছনে কারণ কী, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
তৃণমূলের তমলুক ও নন্দীগ্রাম সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তাঁরা। ফলে দলের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে আরও ধোঁয়াশা।
শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসনেই ভোট
গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। একই নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয় পান। একজন প্রার্থী হিসেবে দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি কেন্দ্রের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে ফের ভোটের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
দলীয় প্রতীক নিয়েও প্রশ্ন
একাংশ মনে করছেন, তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক টানাপোড়েনই নন্দীগ্রামে দলের অবস্থানকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরে ভাঙন আরও প্রকট হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের একাংশ আলাদা অবস্থান নেওয়ার পর দলের মধ্যে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত শিবির’ এই দুই পক্ষের বিভাজন নিয়ে আলোচনা চলছে।
দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা থাকায় নন্দীগ্রামে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ প্রার্থী দেবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
এখন নজর ৬ অক্টোবরের ভোটের দিকে। তার আগে তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করে কি না এবং দলের প্রতীক নিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই হতে চলেছে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


