Aaj India Desk, পুরুলিয়া: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরুলিয়ার (Purulia) রাজনৈতিক ময়দানে ভোটের উত্তাপ বাড়ছে। প্রচারের মঞ্চে জোর গলায় শোনা যাচ্ছে দলীয় ঐক্যের বার্তা, শীর্ষ নেতৃত্বও বারবার সেই ছবিই তুলে ধরতে চাইছে। কিন্তু সেই আবহের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে থাকা কিছু কার্টুন অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যঙ্গচিত্রগুলিতে উঠে আসছে তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরেরই অন্দরকলহের ছবি, যা এখন নির্বাচনের আগে নতুন করে বাড়াচ্ছে অস্বস্তি।
তৃণমূলে স্পষ্ট ঐক্যের অভাব
পুরুলিয়ায় (Purulia) তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। এবারের নির্বাচনী প্রচারেও বিষয়টি সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হস্তক্ষেপ করে এক কাউন্সিলরকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশের পরেও মাঠে ঐক্যের ছবি স্পষ্ট নয় বলেই অভিযোগ। ঘাটালের সাংসদ দেব-এর সাম্প্রতিক রোডশোতে জেলা তৃণমূলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি, প্রাক্তন শহর সভাপতি প্রদীপ কুমার ডাগা ও বৈদ্যনাথ মণ্ডল অনুপস্থিত ছিলেন। এই অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে জেলা যুব সভাপতি গৌরব সিং একটি সভায় দলেরই একাংশ কাউন্সিলরদের ‘ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করেন।
এরই মাঝে গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি কার্টুনে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন কাউন্সিলর দলীয় প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর আলোচনা করছেন। যদিও এই বিষয়ে নবেন্দু মাহালি বলেন, “কার্টুন রাজনীতির অংশ, তবে ব্যক্তিগত কারণে আমি প্রচারে নেই।” অন্যদিকে প্রদীপ ডাগা ও বৈদ্যনাথ মণ্ডলের দাবি, “এগুলি বিরোধীদের প্রচার।” গৌরব সিংয়ের মন্তব্য, “তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ, বিরোধীরাই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
পদ্মেও মিলছে কাঁটা
অন্যদিকে বিজেপি শিবিরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে। পুরুলিয়ার (Purulia) বিদায়ী বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম প্রথম তালিকায় না থাকায় জল্পনা শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। ফলে পদ্ম শিবিরেও অভ্যন্তরীণ কলহের ছাপ স্পষ্ট।
এই অবস্থায় সম্প্রতি একটি কার্টুনে বিজেপির তিন নেতা সুরজ শর্মা, বিবেক রাঙ্গা ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে দেখানো হয়েছে, যেখানে বিদায়ী বিধায়কের ডাকনাম বিকৃত করে দেখানো হয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে তৃনমূলের মতোই বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য বিবেক রাঙ্গা বলেন, “এগুলির কোনও ভিত্তি বা গুরুত্ব নেই।” পাশাপাশি সুরজ শর্মাও নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন “সবই ভিত্তিহীন।”
কার্টুনেই কি প্রকাশ পাচ্ছে দলের ‘মনের কথা’?
এই কার্টুনগুলির সত্যতা বা উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থাকলেও, বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ব্যঙ্গচিত্র অনেক সময় সরাসরি তথ্যের উৎস না হলেও, দলীয় অন্দরমহলের চাপা অসন্তোষ, দ্বন্দ্ব বা মতভেদের একটি প্রতিফলন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে, যখন প্রতিটি শিবিরই নিজেদের ঐক্যবদ্ধ দেখাতে সচেষ্ট থাকে, তখন এই ধরনের কার্টুন বা মিম সেই ‘অদৃশ্য’ ফাটলগুলিকে সামনে নিয়ে আসে।
তাই প্রশ্ন উঠছে, পুরুলিয়ায় তৃণমূল ও বিজেপির এই অন্দরকলহ যার ইঙ্গিত মিলছে কার্টুনে, তা কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলবে? নাকি ভোটের ময়দানে সংগঠনের শক্তি ও প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রভাবের সামনে এই সমস্ত বিতর্ক চাপা পড়ে যাবে, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


