কলকাতা: ফের নতুন আইনি বিতর্কে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ডায়মন্ড হারবারে ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগের পর এবকার নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি খাস জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রি এবং হাজার হাজার মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগ উঠল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, অভিষেক (Abhishek Banerjee) সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এলাকার কয়েকজন। আদালত ইতিমধ্যেই মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ২৭ জুলাই পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, নাকাশিপাড়া ২৪ নম্বর মৌজার অন্তর্গত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি খাস জমির লিজ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি থেকে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যার ফলে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের দাবি, শুধু মাটি চুরি নয়, ওই এলাকা থেকে কয়েক হাজার সেগুন ও মেহগনি গাছও কেটে পাচার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই বেআইনি কাজ চললেও প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হতো। এমনকি অভিযুক্তরা এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সময় “মাথায় অভিষেক (Abhishek Banerjee) দাদার হাত রয়েছে” বলেও দাবি করতেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা পরাশর মণ্ডল, সঞ্জয় দাস, রঞ্জিত বিশ্বাস ও অশোক হালদার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পাশাপাশি এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে শাহজাহান শেখ, চাদু শেখ, হাফিজুল শেখ, হেসমত শেখ, সাইদুল শেখ, গোজলো শেখ, বিদ্যুৎ সরকার, সমীর প্রামাণিক, কিয়ামত শেখ এবং আরমান শেখকে।
মামলায় আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকজন মহিলার উপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় এতদিন তাঁরা প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে পারেননি বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখার এই মামলা কোনদিকে গড়ায়?


