Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি : আগামীকাল সকাল থেকেই শুরু হবে ভোট গণনা। বাংলায় বিধানসভার নির্বাচনের ফলের আগেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। এর মধ্যেই ভোট গণনার প্রাক্কালে সম্ভাব্য লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে ইভিএম বদলের আশঙ্কা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri)।
রবিবার রাত থেকে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমগুলির উপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে নজর রাখছেন। একই সঙ্গে বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যরাও স্ট্রংরুমের ভেতর ও বাইরে পাহারায় রয়েছেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের আশঙ্কা, পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে গণনার আগে পরিস্থিতিকে অস্থির করার চেষ্টা হতে পারে। এই লোডশেডিং এর সুযোগ নিয়ে ইভিএমে কারচুপির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে ধারণা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিশেষ করে রাতের সময় হঠাৎ লোডশেডিং হলে নজরদারিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি।
এই প্রেক্ষিতে স্ট্রংরুম সংলগ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে ট্রান্সফরমারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নির্বাচিত কর্মীদের। তাঁদের কাজ শুধু পাহারা দেওয়া নয়, কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোও। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপিও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। দলের মহিলা মোর্চার সদস্যদের দাবি, শেষ মুহূর্তে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই তারাও জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, গণনার আগের রাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে উভয় রাজনৈতিক শিবিরই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও ইভিএমের নিরাপত্তা ও গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বাড়তি নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে, যাতে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন করা যায়।


