Aaj India Desk, কলকাতা : ফের বিপাকে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। বারাসত আদালতে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট পরিচালনা-সহ একাধিক অভিযোগে চার্জগঠন হল। নতুন ফৌজদারি আইনের সিন্ডিকেট অপরাধ সংক্রান্ত ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়েছে। মামলার তদন্তে যুব তৃণমূলের একটি অ্যাকাউন্টে তোলাবাজির টাকা জমা পড়া এবং সেখান থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের দাবি করেছে পুলিশ।
সিন্ডিকেট অপরাধের ধারায় চার্জগঠন
দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা, প্রোমোটারদের কাছ থেকে তোলাবাজি, জমি দখল এবং প্রতারণা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তদন্তকারী সংস্থা এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে বারাসত আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছিল। চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারার উল্লেখ রয়েছে।
বুধবারের শুনানিতে আদালতে এই মামলায় চার্জগঠন হয়। নতুন ফৌজদারি আইনে সিন্ডিকেট অপরাধ সংক্রান্ত ধারায় এই মামলাতেই প্রথম চার্জগঠন হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে মামলার বিচারপর্বে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা।
যুব তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে টাকা?
মামলার তৃতীয় চার্জশিটে পুলিশের দাবি, বাগুইআটি-কেষ্টপুর এলাকা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা তোলাবাজি করা হয়েছিল। ওই টাকা পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের আরও দাবি, ওই অ্যাকাউন্টের অন্যতম সিগনেটারি ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। পরবর্তী সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত সংক্রান্ত আরও কিছু নথি ও দাবিতে যুব তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty) ও তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশের দাবি, তাঁদের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০টি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
শমীক ভট্টাচার্যের নিশানা
এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও দেবরাজ চক্রবর্তীকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, তোলাবাজির টাকা কোথায় গিয়েছে তা অনেকেই জানেন। শমীকের বক্তব্য, দেবরাজ নাকি ঘনিষ্ঠ কর্মীদের কাছে দাবি করেছিলেন, ‘‘আমি তো কিছু করিনি, যা করার দাদার কথায় করেছি।’’
চার্জগঠনের পর এবার মামলার বিচারপর্ব শুরু হওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি, সিন্ডিকেট অপরাধ এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয় কিনা এখন সেদিকেই নজর।


