কলকাতা: ‘সেবাশ্রয়’ (Sebasray)-এ একাধিক অনিয়মের প্রেক্ষিতে ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল অভিযোগ। এবার বিষ্ণুপুর থানাতে অভিজিৎ দাস ববির করা অভিযোগে FIR রুজু করল পুলিশ। অভিষেকের (Abhishek Banerjee) পাশাপাশি তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মন্ডল, মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদ সহ জাহাঙ্গির খানের নামও রয়েছে অভিযোগপত্রে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারার পাশাপাশি Drugs and Cosmetics Act, PCPNDT Act এবং Atomic Energy Act-এর অধীনেও মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, শুধুমাত্র পুলিশি তদন্তেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই বিতর্ক। ‘সেবাশ্রয়’ (Sebasray) কর্মসূচি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে উঠে আসা সমস্ত তথ্য ও নথি পুলিশের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছেও পাঠানো হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “স্বাস্থ্য দফতর স্বাধীনভাবে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ তাদের তদন্ত করছে। আমাদের হাতে যে তথ্যপ্রমাণ আসবে, সবই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ (Sebasray)-এ হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো, আধুনিক চিকিৎসার ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন হোমিওপ্যাথি, আয়ুষ এবং জুনিয়র চিকিৎসকেরা বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পন্ডা।
শুধু তাই নয়, সেবাশ্রয় (Sebasray) ক্যাম্পের চিকিৎসকদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন না থাকা, শিবিরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG) মেশিন ব্যবহারের জন্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি না নেওয়া, ওষুধের মান ও মেয়াদ সহ একাধিক অনিয়মের প্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস।
এবার দুই থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করায় ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


