Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন শেষে বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (J.P Nadda) ও জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) এবং তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর উপস্থিতিতে একাধিক শর্ত নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে অনশন শেষ হলেও আন্দোলন থামছে না। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে তাঁদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলবে।
অনশন ভাঙার পর সোনম ওয়াংচুককে ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে রেখে ওয়াংচুক গোটা দেশের মানুষকে এই ইস্যুতে সচেতন করেছেন। তাঁর অনশন শেষ হওয়ায় স্বস্তি মিললেও আন্দোলনের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাই নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের অবস্থান বিক্ষোভ চলবে।
এদিকে, ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের জন্য একটি খসড়া বিল তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা হবে এবং আগামী সোমবারের মধ্যে সংসদে তা পাশ করানোর চেষ্টা করবে সরকার, যাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তিনি বলেন, দেশের ছাত্রছাত্রীরা শুধু ভিডিও বার্তা চায় না, তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ চায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, ভিডিও বার্তা দেওয়ার বদলে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে পদ থেকে সরানো হোক। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর যাঁরা লাঠিচার্জ ও নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান রাহুল।


