Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো নিয়ে মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে, মামলার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলিকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের মত জানাতে বলেছে আদালত। বুধবার এমনই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
এদিন বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং পি কে মিশ্রা-র বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা-র কমিটির সুপারিশ মেনেই কাজ করছে রাজ্য।
রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব কর্মচারীর নথি রয়েছে, তাঁদের টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এই কাজে মোট ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রেও নতুন গাইডলাইন এলেই সেই অনুযায়ী বকেয়া টাকা দেওয়া হবে। রাজ্যের আইনজীবী জানান, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সব করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সামনে তাঁরা নিজেদের কথা বলার সুযোগ পাননি। এমনকি ওই কমিটির রিপোর্টও তাঁদের দেওয়া হয়নি। এই কারণেই তাঁরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন করা হচ্ছে।
এ সময় বিচারপতি সঞ্জয় করোল বলেন, “ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া তো শুরু হয়েছে!” এরপর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, কর্মচারীদেরও নিজেদের বক্তব্য জানাতে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
মামলার আগের প্রেক্ষাপটে, সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল-বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত দিতে হবে এবং বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। কিন্তু রাজ্য সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন জানায়।
রাজ্যের দাবি, বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং প্রশাসনিক কারণে এই অতিরিক্ত সময় দরকার। এর আগে আদালত বলেছিল, ২৫ শতাংশ দেওয়ার পর বাকি টাকা কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা একটি বিশেষ কমিটি ঠিক করবে। কিন্তু ৩১ মার্চের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায়, রাজ্য সরকার সময় বাড়ানোর জন্য আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়।


