Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)- এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টানলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia)। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ঘোষণা করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের মধ্যে থেকে কাজ করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে, দল ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না মানস। তাঁর কথায়, রাজনীতি এবং সমাজসেবা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী দিনে তিনি কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, সেই সিদ্ধান্ত পরে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মানস স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে, তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন এবং তা গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে মানস ভুঁইয়ার উত্থান কংগ্রেসের হাত ধরেই। সবং কেন্দ্র থেকে টানা সাতবার কংগ্রেসের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। দল তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদও করেছিল। তাঁর স্ত্রী গীতারানি ভুঁইয়াও তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়ী হন। ২০২১ সালে মানস নিজেও তৃণমূলের টিকিটে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হন।
তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নিজের শক্ত ঘাঁটি সবংয়েই বিজেপি প্রার্থী অমল পাণ্ডার কাছে ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন তিনি। এরপর থেকেই দলের বিরুদ্ধে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এমনকি শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রশংসাও করেছিলেন মানস। তিনি বলেছিলেন, শুভেন্দু মেদিনীপুরের ছেলে এবং তাঁর সাফল্যে তিনি গর্বিত।
নির্বাচনে হারার পর থেকেই মানসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। অবশেষে তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করে সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন তিনি। এখন দেখার, আগামী দিনে তিনি কোন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন বা নতুন কী সিদ্ধান্ত নেন।


