নয়াদিল্লি: যে কোনও নিরপেক্ষ আন্দোলন ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল, হয় তাতে রাজনীতির রং লেগে যাওয়া, নয়ত কোনও রাজনৈতিক দলের দ্বারা সেই আন্দোলন ‘হাইজ্যাকড’ হয়ে যাওয়া! অথবা, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য থেকে আন্দোলনকারীদের বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে বেহাল-দুর্নীতিগ্রস্ত দশা থেকে মুক্তি দিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবরা যে আন্দোলনে (CJP protest) নেমেছেন, তার সূচনা লগ্ন থেকেই এই ৩ টি সম্ভাবনাকে আন্দোলনের ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেননি তাঁরা।
হ্যাঁ, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি সহ বেশ কিছু বিরোধী দলের নেতারা অনশনরত সোনম ওয়াংচুক এবং ছাত্রদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু এই আন্দোলনে (CJP protest) সরাসরি রাজনীতিকে প্রবেশাধিকার দেয়নি সিজেপি। তবে ২০ জুলাই তাঁদের ‘সংসদ চলো’ অভিযানে মানুষের ঢল নামার ঠিক পরের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, অখিলেশরা। তাঁদের টেনে হিঁচড়ে আটকও করে পুলিশ।
এবার রাহুলদের সেই অবস্থান বিক্ষোভ নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সোনম-পত্নী তথা এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ গীতাঞ্জলী জে আংমো (Gitanjali J Angmo)। ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের ধর্না ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কে এবার মুখ খুললেন অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। রাহুল গান্ধীদের কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের প্রতিবাদে “সততার অভাব” রয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে যে প্রতিবাদ হয়েছে, তাতে সততার অভাব ছিল। মানুষকে এইভাবে আর বোকা বানানো যাবে না। ভারত এখন অনেক বেশি সচেতন। যারা সৎ নয়, যুবসমাজ তাদের সমূলে উৎখাত করবে।” তাঁর (Gitanjali J Angmo) এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
এখানেই থেমে না থেকে গীতাঞ্জলির অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা সোনম ওয়াংচুকের জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে তাঁর দাবি, “এই কপট রাজনীতি সফল হবে না।” সেইসঙ্গে সোনমের অনশনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত ২৬ দিন ধরে আন্দোলন (CJP protest) চলছে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
তাঁর (Gitanjali J Angmo) কথায়, “ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে (CJP protest) কোনও রাজনীতি নেই। এই আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, সেই অনুযায়ী কাজও করতে হবে। আমাদের লড়াই শাসক বা বিরোধীর বিরুদ্ধে নয়। আমাদের একমাত্র দাবি, সংসদ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করুক।” যদিও গীতাঞ্জলি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নেননি, তাঁর মন্তব্যকে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


