34 C
Kolkata
Friday, April 17, 2026
spot_img

অধ্যাপকদের বুথ ডিউটি থেকে মুক্তি, কমিশনের ‘যুক্তিহীন’ বিজ্ঞপ্তি খারিজ ক্ষুব্ধ আদালতের !

Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক বা শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কমিশন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্যাখ্যা দিতে না পারায় আদালতের কড়া সিদ্ধান্ত

নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সহকারী অধ্যাপকদের বুথ সামলানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরেই কলেজ শিক্ষিকা রূপা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপরে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন সহকারী অধ্যাপকদের ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। এর পরেই শুক্রবারের শুনানিতে আদালত কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি খারিজ করার সিদ্ধান্ত জানায়।

মামলায় কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পাণ্ডে যুক্তি দেন, ২০১০ সালের পরিবর্তে ২০২৩ সালের নতুন গাইডলাইন অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন আইনের ধারা ২৬ অনুযায়ী জেলা নির্বাচন আধিকারিক শিক্ষকদের নিয়োগ করতে পারেন বলেও দাবি করা হয়।

কমিশনের যুক্তি খারিজ

বিচারপতি বলেন, সহকারী অধ্যাপকদের নিয়োগ করতে হলে তাঁদের পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামো বিবেচনা করে দায়িত্ব দিতে হবে। শুনানির সময় তিনি মন্তব্য করেন, “এই যুক্তিতে বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ভোটের কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে! বারবার নিয়ম বদল করা হচ্ছে, কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই।”

পাশাপাশি আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, কলেজ শিক্ষকদের এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি ‘রিজার্ভ’ কর্মীদের নিয়োগ করা উচিত। তাঁদের মতে, শিক্ষকদের মূল দায়িত্বের বাইরে এই ধরনের কাজ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে হিমশিম কমিশনের 

এই রায়ের ফলে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে কর্মী নিয়োগের প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এতদিন যে পরিকল্পনা অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের আর অল্প সময় বাকি থাকায়, দ্রুত উপযুক্ত ও প্রশিক্ষিত কর্মী খুঁজে বের করা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বুথ স্তরের প্রস্তুতিতেও। ভোটকর্মীদের তালিকা পুনর্গঠন, নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সব কিছুই দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে কারণ হাতে রয়েছে মাত্র ৬ দিন। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট শুরু হবে ২৩ তারিখেই। ফলে এই শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন কমিশন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে পারে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন