Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেওয়াললিখন নিয়ে বিতর্কের আবহেই চোখে পড়ল নতুন ছবি। শনিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে থাকা বেশ কিছু লেখা ও স্লোগান সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-যাদবপুরের দেওয়ালে লেখা কয়েকটি স্লোগান এবং ক্যাম্পাসের আবর্জনা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের চাপে এই কাজ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেওয়াল পরিষ্কার করা হয়। এবারও সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন দেওয়ালের পুরনো লেখাগুলি ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিকের বক্তব্য, দেওয়ালে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের লেখা থাকলে জায়গাটিকে অপরিচ্ছন্ন দেখায়। তাই সৌন্দর্যায়নের কথা মাথায় রেখেই রং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই যুক্তিতে অবশ্য সন্তুষ্ট নয় SFI। সিপিএমের ছাত্র সংগঠনটির দাবি, যাদবপুরের দেওয়াললিখনকে শুধুমাত্র সৌন্দর্য নষ্ট করা কিছু লেখা হিসেবে দেখা যায় না। তাদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে এই স্লোগানগুলির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধারার অংশ হিসেবেই বহু বছর ধরে এই ধরনের লেখালিখি চলে আসছে। সেই ঐতিহ্যকে সাদা রঙের আস্তরণে মুছে ফেলা যাবে না বলেই দাবি সংগঠনের। প্রয়োজনে ফের দেওয়ালে সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান লেখার কথাও জানিয়েছে SFI।
এই বিতর্কের সূত্রপাত আরও পিছনে। সম্প্রতি ABVP এবং বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ের পরিস্থিতির মধ্যেই কলা বিভাগের দেওয়াললিখন নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ এবং ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ লেখা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে, যাদবপুরের মতো ‘সেন্টার ফর এক্সেলেন্স’-এ এই ধরনের সংস্কৃতির উপস্থিতি কাম্য নয়।
এছাড়াও কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো সামনে আসার বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী সেগুলির সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেন।
এর মধ্যেই কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে। তাদের পরামর্শ, নিজেদের দাবি বা বক্তব্য জানাতে দেওয়ালে লেখার বদলে নির্দিষ্ট ‘ডিসপ্লে বোর্ড’ ব্যবহার করা হোক। ফলে পরিচ্ছন্নতার যুক্তিতে শুরু হওয়া দেওয়াল রংয়ের কাজকে ঘিরে যাদবপুরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ফের সামনে এসেছে পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক।


