Aaj India Desk, কলকাতা: বিজয়া দশমীতে সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় হাওড়া পুলিশের (Hawrah Police) গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। সূত্রের খবর, ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। বিধায়ককে পুলিশের তরফে একটি নোটিসও দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে গ্রেফতারের আশঙ্কার কথাও নোটিসে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কী নিয়ে বিতর্ক?
দশমীর দিন হাওড়ার বাজা কদমতলা ঘাটে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরেই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন কুণাল ঘোষ। ওই পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী চার দিনের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগেও একটি পৃথক মামলায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। অষ্টমীর দিন তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে হয়েছিল। বিজেপি নেতা পার্থ চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় বলে জানা যায়।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে হামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কুণাল। তাঁর দাবি ছিল, গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয় এবং লাঠি দিয়েও আঘাত করা হয়। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির লোকজন জড়িত বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পরের দিন, ২৭ সেপ্টেম্বর নিজের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটায়ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন কুণাল।
অন্যদিকে, পার্থ চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় কুণাল ঘোষ প্রমাণ ছাড়াই বিজেপিকে দায়ী করেছেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নারকেলডাঙা থানায় মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই পুলিশ তাঁকে তলব করেছিল। এবার বিসর্জন সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে ফের তাঁর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে কী বললেন কুণাল?
নতুন নোটিস পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে এবং হাওড়া পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দল তাঁর বাড়িতে এসে নোটিস দিয়েছে। তাঁর দাবি, নিজের পোস্টে আপত্তিকর কিছু লেখেননি তিনি।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, তিনি নিজেও হিন্দু এবং পুজোর সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় একটি মঠ, সনাতনী ধর্ম প্রচারণী সভা ও মিশনের সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই তাঁকে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
পাশাপাশি, তাঁকে পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, আগে তাঁর উপর হামলার অভিযোগের পরেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।
সব মিলিয়ে, বিসর্জন সংক্রান্ত পোস্টকে ঘিরে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং তাঁর পালটা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।


