36.5 C
Kolkata
Sunday, June 28, 2026
spot_img

তৃণমূলে সংঘাত তুঙ্গে! একুশে জুলাইয়ের আগে ফের কি নিয়ে মুখোমুখি কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির?

Aaj India Desk, কলকাতা: একুশে জুলাই (21st July)-কে সামনে রেখে তৃণমূলের (TMC) দুই শিবিরের সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে কালীঘাট-তৃণমূল (Kalighat Trinomul), অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির (Ritabrata’s camp)-দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি দেখাতে মাঠে নেমেছে। জানা গিয়েছে, ঋতব্রত শিবির ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশ (Gathering) করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কাউন্সিলরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজেদের এলাকা থেকে যত বেশি সম্ভব মানুষ সমাবেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিতে।

এদিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি শুরু হয়েছে আইনি টানাপোড়েনও। কালীঘাট-তৃণমূলের অভিযোগ, ঋতব্রত শিবির দলীয় অনুমতি ছাড়াই তৃণমূলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করছে। এই অভিযোগে নিউ টাউন থানায় ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। অভিযোগে প্রতারণা, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং ভুয়ো নথি ব্যবহারের মতো বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবং প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে জিতে পরে সেই দলকেই চ্যালেঞ্জ করছেন, তাঁরা মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তাঁর আরও বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে যা-ই সিদ্ধান্ত নিক, সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় পরিচয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।

অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের নেতা সন্দীপন সাহার বক্তব্য, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়েই বৈঠক করেছেন এবং সেই অধিকার তাঁদের রয়েছে। কার দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য, তার চেয়ে মানুষের সমর্থন কার পাশে রয়েছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঋতব্রত শিবির ৫০-এর বেশি কাউন্সিলরকে নিয়ে এক বৈঠক করে, যেখানে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দুই পক্ষের এই সংঘাতকে ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপিও। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, তৃণমূলের কোন শিবির কার বিরুদ্ধে লড়ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের বিশেষ আগ্রহ নেই। তাঁর কথায়, দুই পক্ষই একে অপরকে বিশ্বাসঘাতক বলছে। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভোটের আগে তৃণমূল নেতারাই দাবি করেছিলেন বিজেপি ৫০টি আসনও পাবে না। সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন