মুম্বই: দেশজুড়ে বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) একটি মন্তব্য! যেখানে বেকার যুবকদের “পরজীবী” এবং “আরশোলা” বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
আর মাত্র একদিন পরেই হওয়ার কথা ছিল সমাবর্তন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আচমকাই বাতিল করে দেওয়া হল টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (TISS)-এর ৮৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পাঠানো একটি ই-মেলে জানায়, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’-র কারণে ২ অগাস্টের সমাবর্তন অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী সেই পরিস্থিতি, তা ই-মেলে স্পষ্ট করা হয়নি।
পরবর্তীতে টিআইএসএসের (TISS) তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সকলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট কারণও উল্লেখ করা হয়নি।
এরপরই জোরালো হয় অন্য জল্পনা। শিক্ষার্থী ও কলেজের একাংশের কর্মকর্তাদের দাবি, সমাবর্তন ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কাই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই ক্যাম্পাসে সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা চলছিল।
সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। এরপরই অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট ইনপুটের ভিত্তিতেই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত CJP-র সম্ভাব্য বিক্ষোভকে সমাবর্তন বাতিলের কারণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। ফলে ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’র আড়ালে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শিক্ষা মহলে।
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) ‘আরশোলা’ মন্তব্যের প্রতিবাদেই ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশজুড়ে আলোচনায় চলে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শতাধিক সমর্থক আরশোলার মুখোশ পরে, হাতে বই ও জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে সামিল হন। টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করাতে সফল হয় এই আরশোলারাই। সেইসঙ্গে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আশ্বাস নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে তারা।
যে যুবসমাজকে দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI Surya Kant) ‘আরশোলা’ বলেছিলেন, সেই আরশোলারাই একজোট হয়ে চোখে চোখ রেখে দেখিয়ে দিয়েছে, ন্যায্য দাবীতে আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতম শাসককেও নরম করতে পারে।


