Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে গোটা বিশ্বের। তার প্রভাব এবার পড়ল ভারতের জ্বালানি নীতিতেও। দেশের বাজারে যাতে পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির ঘাটতি না হয়, সেজন্য রফতানি নীতিতে বড় বদল আনল কেন্দ্র সরকার। বুধবার, ১৬ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন এই সিদ্ধান্ত।
নতুন নিয়মে ডিজেল বিদেশে পাঠাতে আগের তুলনায় অনেক বেশি শুল্ক দিতে হবে। একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের ক্ষেত্রেও। সরকারের আশা, এতে তেল সংস্থাগুলি বিদেশের বাজারের বদলে দেশের চাহিদা মেটানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেবে।
সংখ্যার হিসাবে দেখলে, ডিজেলের রফতানি শুল্ক প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ লিটার প্রতি অতিরিক্ত ৭ টাকা দিতে হবে। বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রেও একই ছবি। ATF-এর রফতানিতে এখন প্রতি লিটারে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা শুল্ক লাগবে, যা আগে ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা।
তবে পেট্রোলের ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটল কেন্দ্র। পেট্রোল রফতানিতে শুল্ক কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে প্রতি লিটারে ৪ টাকা দিতে হত, এখন সেখানে দিতে হবে ২ টাকা ৫০ পয়সা।
সরকারি সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম খতিয়ে দেখে এই ধরনের শুল্ক কাঠামো ঠিক করা হয়।
তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য কী বদলাচ্ছে? আপাতত বড় কোনও পরিবর্তন নেই। কারণ এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রফতানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, খুচরো বাজারে পেট্রোল বা ডিজেলের দামের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।
সব মিলিয়ে, দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


