32 C
Kolkata
Saturday, April 18, 2026
spot_img

শাসক দলের হয়ে প্রচার ? কমিশনের রোষে সাসপেন্ড ৫ BLO !

Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে নিরপেক্ষতা রক্ষায় ফের কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। শাসকদলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে রাজ্য জুড়ে মোট পাঁচজন বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-কে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। ঘটনার ফলে রাজ্য রাজনীতিতেও ফের বেড়েছে উত্তাপ।

অশোকনগরে তিন BLO সাসপেন্ড

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রে (নং ১০১) তিনজন BLO-র বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তরা হলেন অভিজিৎ দে (পার্ট নং ২৮১), তপন কুমার সাহা (পার্ট নং ২৮২) এবং কুমারজিত দত্ত (পার্ট নং ২০৫)। এঁদের বিরুদ্ধে অশোকনগরের বিজেপি প্রার্থী সৌম্য হিরা কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগে বলা হয়, এই তিনজন সরকারি কর্মী তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে দেওয়াল লিখন ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। প্রমাণ হিসেবে ছবি-সহ তথ্য জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসার শো-কজ নোটিস পাঠান। সূত্রের খবর, তপন সাহা ও অভিজিৎ দে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। অন্যদিকে, কুমারজিত দত্ত শো-কজ নোটিসের উত্তরই দেননি। এরপর ১৭ এপ্রিল কমিশন তাদের সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি, কমিশনের নির্দেশে অশোকনগর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে FIRও দায়ের করা হয়।

বীরভূমে আরও দুই BLO-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

বীরভূম জেলার দুবরাজপুর (২৮৪) ও ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। দুবরাজপুরে মঞ্জুরি চট্টোপাধ্যায় (পার্ট নং ১১২)-এর বিরুদ্ধে দলীয় অফিসে বসে ভোটার স্লিপ বিতরণের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মী দলীয় কার্যালয় থেকে সরকারি কাজ করতে পারেন না। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, ময়ূরেশ্বরে এক BLO-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভোটার স্লিপ বিলি করার সময় যে সাইকেল ব্যবহার করছিলেন, তাতে একটি রাজনৈতিক দলের পতাকা লাগানো ছিল। এই ঘটনায়ও প্রমাণ-সহ অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় সংশ্লিষ্ট BLO-র বিরুদ্ধেও সাসপেনশন ও FIR-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা কমিশনের

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০ অনুযায়ী, এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিতর্কিত মন্তব্য বিরোধীদের 

শাসকদল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি বহু আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে একপেশে বলে অভিযোগ করে এসেছে। তাঁদের মতে, কমিশনের তরফে একাধিক নিয়ম ভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে, তবু এই নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

তবে ভোটের ঠিক আগে প্রশাসনিক এই কড়া পদক্ষেপ জেলা প্রশাসন ও রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে। ভোটের মুখে এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনিক স্তরে কড়া নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে কমিশন একদিকে যেমন বার্তা দিচ্ছে, তেমনই স্বচ্ছ ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও জোরদার করছে। ফলে নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা এবং জবাবদিহি বাড়াবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন