Aaj India desk, কলকাতা: তিলজলায় বেআইনি চামড়ার কারখানায় আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছিল দুই শ্রমিকের। এরপরই উত্তর প্রদেশের ঢঙে এই রাজ্যের বিজেপি সরকারও বুলডোজার (buldozer) অভিযানে নেমে পড়েছিল। কোনরকম নোটিস ছাড়াই তিলজলায় বাড়ি ভাঙ্গা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে বেআইনি বাড়ির নামে অনেক বৈধ বাড়িতে বুলডোজার চালানো হচ্ছে। অবৈধ বাড়িও এভাবে বিনা নোটিসে কতটা ভাঙ্গা যায় প্রশ্ন ছিল তা নিয়েও। বিজেপি সরকার আসতেই মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালানোর এ এক নতুন পন্থা বলেও মনে করেন অনেকে। এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল কলকাতা হাই কোর্ট (high court)।
কলকাতা হাইকোর্টের মত কি?
কলকাতা হাইকোর্ট (high court) তিলজলায় বেআইনি বহুতল এবং বাড়ি ভাঙার বুলডোজার (buldozer) অ্যাকশনের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বিতর্কিত সম্পত্তি আর ভাঙা যাবে না। আদালত সাফ জানিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গেলেও আইনি প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তা করতে হবে। কোনো রকম আগাম নোটিশ না দিয়ে হুট করে উচ্ছেদ বা ভাঙার কাজ করা যাবে না। তবে ভাঙা বহুতলটির কোনো অংশ যদি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকে, তবে কলকাতা পুরসভা বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে সেই অংশটুকু ভাঙতে পারবে। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে,
ওই চত্বরে বা বহুতলে কোনো ধরনের কারখানার কাজ বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না। এবং সেখানকার কোনও বাসিন্দার পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা হবে না।
তিলজলা ও তপসিয়া এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আগের সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ছিল বলে জানান বিচারপতি। উল্লেখ্য বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ ইমারত গড়ে উঠেছে। এই নিয়ে বহুবার অভিযোগ আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পালাবদলের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার শুরুতেই বুলডোজার চালানোর নীতি নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারী বারবার মুসলিমদের দেখে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।তাই বুলডোজার (buldozer) সংস্কৃতি কতটা উন্নয়নের জন্য সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছিল।


