ইসলামাবাদ: আদিত্য ধরের ছবি ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar)-মুক্তির পর পাকিস্তানের (Pakistan) লিয়ারির নাম এখন প্রায় সকলেরই জানা। সেই সঙ্গে লিয়ারির কুখ্যাত গ্যাংস্টার উজাইর বালোচ (Uzair Baloch) এবং তাঁর পরিবারের নামও অনেকেই জানে। এবার আর রুপোলী পর্দা নয়, বাস্তবের সেই কুখ্যাত পরিবারেই রক্তাক্ত হামলা!
জানা গিয়েছে, এবার করাচির লিয়ারি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হলেন তাঁর ভাই জুবায়ের বালোচ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান চাকিওয়ারা রোডে জুবায়ের বালোচকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। হামলার জেরে দুই পথচারীও গুরুতর আহত হন। গুলি চালিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় হামলাকারীরা।
প্রায় ৪০ বছর বয়সি জুবায়েরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় করাচির সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, তাঁর বুক ও পেটে একাধিক গুলি লেগেছে। ইতিমধ্যেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুবায়েরের ভাই উজাইর বালোচ (Uzair Baloch) একসময় পাকিস্তানের (Pakistan) বিলুপ্ত পিপলস আমন কমিটি-র প্রধান ছিলেন। বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। সম্প্রতি তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র উঠে আসে ২০২৫ সালের বলিউড ছবি ‘ধুরন্ধর’-এ।
সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা দানিশ পান্ডর। ছবিটির দ্বিতীয় পর্বেও ওই চরিত্রকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বলা বাহুল্য, বলিউডের ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) ছবির পর ফের আলোচনায় উজাইর বালোচের (Uzair Baloch) পরিবার। এবার করাচির লিয়ারিতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হলেন তাঁর ভাই জুবায়ের বালোচ। ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এ কি পুরনো গ্যাং-শত্রুতার ফল, নাকি রাজনৈতিক যোগসূত্রের জেরে হামলা?
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিয়ারির সিঙ্গু লেনে নিজের বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন জুবায়ের। সেই সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। হামলায় জুবায়েরের পাশাপাশি দুই পথচারীও গুরুতর জখম হন। গুলি চালিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় আততায়ীরা। দক্ষিণ করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, জুবায়েরের বুক ও পেটে একাধিক গুলি লেগেছে। তাঁকে দ্রুত করাচির সিভিল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের কড়া নজর রয়েছে।
জুবায়ের বালোচ অপরাধজগতেরও পরিচিত মুখ। ডিআইজি আসাদ রাজা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে সাতটি ফৌজদারি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ কারাবাসের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি মুক্তি পান।
তবে মুক্তির পর জীবনযাত্রায় বদল আনার ইঙ্গিতও মিলেছিল। এক স্থানীয় সমাজকর্মীর দাবি, কয়েক মাস আগে জুবায়ের একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন এবং নিজের এলাকায় সেই দলের পতাকা লাগানোর কাজেও সক্রিয় ছিলেন। ফলে হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, জুবায়েরের ভাই উজাইর বালোচ (Uzair Baloch) পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার এবং বর্তমানে কারাবন্দি। তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত একটি চরিত্র সম্প্রতি বলিউডের ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) ছবিতে দেখানো হয়েছিল। সেই আবহেই উজাইর পরিবারের উপর এই হামলা পাকিস্তানের (Pakistan) অপরাধজগত ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।


