Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : রাজ্য জুড়ে চলছে হকার ও অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদের প্রক্রিয়া। রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী যাতায়াতের রাস্তায় অসুবিধা হওয়ার কারণেই এই হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে। অথচ সেই পরিস্থিতিতে শাসক দলেরই পার্টি অফিস খোলা হলো রাস্তার একাংশ দখল করে। এমনই অভিযোগ করেছেন বরানগরের (Baranagar) বাসিন্দারা।
কী অভিযোগ উঠেছে?
বরানগরের (Baranagar) স্থানীয় এক বাসিন্দা সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করে দাবি করেছেন, প্রথমে একটি অস্থায়ী টিনের গুমটি কমলা রঙে রাঙিয়ে পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে ইঁট-সিমেন্টের স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়। পুরো নির্মাণকাজই হয়েছে চলাচলের রাস্তার একাংশ দখল করে। যাঁরা বর্তমানে ওই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে আগে দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা ও রাস্তার সংযোগস্থল দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকাটি গাড়ি, সাধারণ যাতায়াত এবং জরুরি পরিষেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ওই রাস্তা দিয়েই অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে এবং সেটিই এলাকার একমাত্র কার্যকর পথ। ফলে রাস্তার অংশ দখল করে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ জনস্বার্থের পরিপন্থী।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরেই বরানগর (Baranagar) থানার অবস্থান। সেই কারণে প্রকাশ্য স্থানে নির্মাণকাজ চললেও প্রশাসনের নজরে বিষয়টি কেন আসেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার কিছু বাসিন্দা। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিধায়কের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতির অভিযোগ
পোস্টে বরানগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক সজল ঘোষের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমেছে। পূর্বনির্ধারিত বৈঠকেও মানুষ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও বিধায়কের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এলাকায় যখন হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা চলছে, তখনই রাস্তার অংশ দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সকলের জন্য সত্যিই একই নিয়ম থাকলে রাস্তা দখলের এই অভিযোগটিও যেন মুখ্যমন্ত্রী একই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখেন তা নিয়েই দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর একাংশ ।


