Aaj India Desk, উত্তর দিনাজপুর : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার রাজ্যে প্রচারে এসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) রায়গঞ্জের সভা থেকে একযোগে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন। সাথে বঙ্গের অভ্যন্তরীন রাজনীতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি।
রাজ্যের শিল্পের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলে শিল্প ও কর্মসংস্থানের অবনতি হয়েছে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল ও বিজেপিকে ভোট দিলে মানুষ দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়বে।” রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বেকারত্ব ভাতা ও কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, রাজ্যে চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। তিনি দাবি করেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনও কাজের অপেক্ষায়। শিল্প প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বাম আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার, দু’দফাতেই রাজ্যের শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে।
ঘাসফুলের জমিতেই পদ্মের চাষ?
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, এই পরিস্থিতিই রাজ্যে বিজেপির উত্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট বলেন যে তৃনমূলের দুর্বলতার সুযোগেই বিজেপি বঙ্গের মাটিতে নিজের বীজ ছড়িয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস কর্মীদের উপর আক্রমণ হচ্ছে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা নিচ্ছে না।
টিএমসি-বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়েই আটকে বঙ্গ
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পিছনে রয়েছে রাজ্যের বাস্তব রাজনৈতিক চিত্রেরই প্রতিফলন। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনে সিন্ডিকেট রাজ, চাকরি কেলেঙ্কারি ও শিল্পের পতনের অভিযোগ যেমন জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তেমনি বিজেপিও মেরুকরণ ও সহিংসতার রাজনীতির মাধ্যমে সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা চালিয়েছে বলে সমালোচকদের অভিমত। আজকের এই আক্রমণ আসলে কংগ্রেসকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশল হলেও বাস্তবে বাংলার রাজনীতি এখনও টিএমসি-বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়েই আটকে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও শান্তির দাবি দুই দলের কাছেই অবহেলিত হয়ে চলেছে বলে রাহুল গান্ধীর মত।
রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) এই মন্তব্য শুধুমাত্র নির্বাচনী বক্তৃতা নয়, বরং বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের একটি স্পষ্ট আয়না। তবে সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। এবার এই তরজা ভোটের ফলে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয় কিনা সেদিকেই নজর।


