Aaj India Desk, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিজেপি সরকারের (BJP Government) প্রথম বাজেট অধিবেশন। রাজ্যপাল আরএন রবি (RN Rabi)-এর ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সূচনা হয়। আগামী ২২ জুন, সোমবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব, যেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট বা বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। এরপর বিরতি নিয়ে আগামী ৬ জুলাই সকাল ১১টায় ফের বসবে বিধানসভার অধিবেশন।
এদিন রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ, শিল্প, কৃষি এবং কর্মসংস্থান-এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আগের সরকারের নানা কাজেরও পরোক্ষে সমালোচনা করেন তিনি।
দুর্নীতি ও তোলাবাজি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’
রাজ্যপাল বলেন, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল রাজ্য থেকে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজ পুরোপুরি বন্ধ করা। প্রশাসনে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে সরকার কড়া পদক্ষেপ করবে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখা, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া এবং মানব পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি দখল, বালি পাচার ও খনিজ সম্পদ লুটের মতো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে এবার কড়া অভিযান চলবে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা ও নতুন শিল্পের রূপরেখা
রাজ্যপালের দাবি, রাজনৈতিক কারণে এতদিন বাংলার বহু মানুষ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাননি। নতুন সরকার চেষ্টা করবে যাতে আয়ুষ্মান ভারত, পিএম আবাস-সহ সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায়।
শিল্পের ক্ষেত্রেও নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। আগের সরকারের সময়ে অধিগৃহীত হলেও ব্যবহার না হওয়া জমিগুলি নতুন শিল্প গড়ার কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় পরিবহণ, জলপথ পরিবহণ এবং আধুনিক মৎস্যচাষের ওপরও জোর দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও চাকরি নিয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা
শিক্ষা ও চাকরির প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, এবার থেকে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) কার্যকর করা হবে। স্বচ্ছভাবে শূন্যপদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হবে। প্রতি বছর নিয়মিত টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং স্কুলে শিক্ষক-ছাত্রের সঠিক অনুপাত বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। গ্রন্থাগারগুলিকেও আধুনিক করে তোলা হবে।
উত্তরবঙ্গে একটি নতুন আইআইটি গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বড় স্টার্টআপ হাব তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান, যাতে চাকরির জন্য আর ভিনরাজ্যে যেতে না হয়। বন্ধ হয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিও ধাপে ধাপে চালু করার আশ্বাস দেন।
সব মিলিয়ে, বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের ভাষণে রাজ্যপাল নতুন সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কর্মসংস্থানের বার্তাই রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেন।


