Aaj India Desk, কলকাতা : মেসি-কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas) বড় স্বস্তি দিলো কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর উপর থাকা সুরক্ষার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল রেখেছে। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ এদিন অরূপের সুরক্ষা বাতিলের দাবিতে দায়ের হওয়া মামলায় হস্তক্ষেপ করেনি।
তদন্ত চলবে, চার্জশিটেও বাধা নেই
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনে চার্জশিটও জমা দিতে পারবে পুলিশ। তবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি-সহ কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এদিন আদালতে মেসি-কাণ্ড সংক্রান্ত দুটি রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে জানানো হয়, তদন্তে অরূপ বিশ্বাস পুলিশকে সহযোগিতা করছেন।
সুরক্ষা বাতিলের আবেদন খারিজ নয়, হস্তক্ষেপও নয়
মেসির ভারত সফর ঘিরে তৈরি হওয়া মামলায় অরূপের সুরক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন সফরের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন শুনানি হয়। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অরূপকে (Aroop Biswas) দেওয়া আগের সুরক্ষায় কোনও হস্তক্ষেপ করেননি। ফলে আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকছে।
কী হয়েছিল মেসির কলকাতা সফরে?
গত ডিসেম্বর ভারতে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। তাঁকে এক ঝলক দেখতে কলকাতায় ভিড় করেছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী। অনেকে টাকা খরচ করে টিকিটও কিনেছিলেন। কিন্তু যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপর ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালান।
কেন কাঠগড়ায় অরূপ?
ঘটনার সময় অরূপ বিশ্বাসকে মেসির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। মেসির সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মেসির পরিবার এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও তাঁর ছবি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে ঘটনার দিনই অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন শতুদ্র দত্ত। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই আইনি জটিলতা আরও বাড়ে এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
মামলায় ইতিমধ্যেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় প্রায় তিনবার হাজিরা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। পুলিশি তলবে সাড়া দেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তিনি আদালতের কাছ থেকে সুরক্ষাও পেয়েছেন। এদিনের নির্দেশের ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া চললেও আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ থাকছে। ১৭ নভেম্বর ফের কলকাতা হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি হবে।


