Aaj India Desk, কলকাতা : ঈদ-উল-আজহায় পশু বলি সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিয়ম নিয়ে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই শুক্রবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। অতীতের সরকারগুলির বিরুদ্ধে “ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি”র অভিযোগও তোলেন তিনি।
কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, “এটা বাংলার নিয়ম। ১৯৫০-এর দশক থেকে এই নিয়ম রয়েছে। অন্য রাজ্যে কেন নেই, সেই প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়, কারণ সেখানে এই নিয়ম নেই। বহু বছর ধরে বাংলায় এই নিয়ম কার্যকর। আগের সরকারগুলি তা প্রয়োগ করেনি, কারণ তারা ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করত।” তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে “তুষ্টিকরণ রাজনীতি” করেছেন। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক ইস্যুতে প্রশাসনিক নমনীয়তা বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করে এসেছে তৃনমূল সরকার। যদিও প্রতিবারই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রতিবাদে আদালতে যান মহুয়া
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের দাবি, পশু বলি ও গবাদি পশু সংক্রান্ত নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের দুধ শিল্প ও চামড়া শিল্পেও। তাঁদের মতে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে কর্মক্ষম বা দুগ্ধ উৎপাদনকারী পশুর সংখ্যা কমতে থাকলে ভবিষ্যতে দুধ উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, সরবরাহ চক্র এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলিও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সেই উদ্বেগ নিয়ে পশু বলি আইনের বদলের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃনমূলের মহুয়া মৈত্র। পশু বলি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতে সেই মামলায় স্বস্তি মেলেনি।
ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরই পশু বলি, স্বাস্থ্যবিধি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের তরফে বিশেষ নজরদারি থাকে। বিভিন্ন পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে চলার কথাও জানানো হয়। এবার সেই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


