24 C
Kolkata
Friday, May 29, 2026
spot_img

বিজেপি জমানায় বাংলায় আমুলের মেগা বিনিয়োগ! চাপে বাংলার দুগ্ধ ব্র্যান্ড?

Aaj India Desk, হাওড়া : পশ্চিমবঙ্গের সরকার বদল হতেই হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রায় ৬০০-৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিলো আমুল (Amul)। প্রতিদিন ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ এবং ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্রকল্প ঘিরে যেমন শিল্পমহলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তেমনই বাড়ছে স্থানীয় দুগ্ধ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষ করে বাংলার নিজস্ব ব্র্যান্ড রেড কাউ ও মাদার ডেয়ারির (বর্তমানে বাংলার ডেয়ারি) উপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সাঁকরাইলে মেগা প্রকল্প

২০২৫ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে প্রথম এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। আমুলের (Amul) দাবি, বাংলায় দইয়ের বড় বাজার রয়েছে। বিশেষ করে টক দই ও মিষ্টি দইয়ের চাহিদাকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ।

প্রকল্পটি দুই ধাপে তৈরি হবে। দুধ প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ভ্যালু-অ্যাডেড ডেয়ারি পণ্যও তৈরি করা হবে। এর ফলে পূর্ব ভারতে আমুলের বাজার আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে শিল্পমহল।

স্থানীয় ব্র্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

তবে এই বিনিয়োগকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে রেড কাউ ও বাংলার ডেয়ারির মতো স্থানীয় সংস্থাগুলির শক্ত অবস্থান রয়েছে। তুলনায় আমুলের বিপুল মূলধন, বৃহৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সর্বভারতীয় ব্র্যান্ড শক্তি স্থানীয় সংস্থাগুলির উপর প্রতিযোগিতার চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেয়ারি শিল্পের একাংশের মতে, বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার আগমনে ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের স্থানীয় উৎপাদকদের বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দই ও দুধের মতো দৈনন্দিন পণ্যে মূল্য প্রতিযোগিতা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।

দাম বাড়ার আশঙ্কা

বাজারের একাংশের দাবি, আমুলের (Amul) একাধিক পণ্যের দাম স্থানীয় ব্র্যান্ডের তুলনায় বেশি। ফলে ভবিষ্যতে বাজারে তাদের আধিপত্য বাড়লে সাধারণ ক্রেতাদের খরচও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

তবে রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে এই প্রকল্পকে বড় বিনিয়োগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুধ সংগ্রহ, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বহু ক্ষুদ্র উৎপাদক যুক্ত হতে পারেন। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১.২ লক্ষ মহিলা দুগ্ধ উদ্যোক্তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।

উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পর গুজরাটভিত্তিক সংস্থা আমুলের এই বৃহৎ বিনিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই গুজরাটের কর্পোরেট সংস্থাগুলির বাংলায় বিনিয়োগে বিশেষ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আসাম, কর্ণাটক জাতীয় একাধিক রাজ্যে বিজেপির শাসনকালে আমুল বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে আমুলকে গুজরাটের সাদা বিপ্লবের মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলে এই পরস্পর সহযোগিতার রাজনীতিতে আখেরে কার লাভ ও কার ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন