Aaj India Desk,কলকাতা: দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, আর সেই আবেগের সঙ্গে যখন জড়িয়ে যায় রাজনীতি, তখন বিতর্ক ও তৈরি হয় সমান তালে। গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ার দুর্গাপুজোকে ঘিরে তেমনই এক জল্পনা ছড়িয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল, এবার নাকি কলেজ স্কোয়ার পুজো কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। রাজনৈতিক মহল থেকে পুজোপ্রেমী বাঙালি— সকলের মধ্যেই শুরু হয়েছিল চর্চা।
তবে সেই জল্পনায় নিজেই ইতি টানলেন শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, শুধু কলেজ স্কোয়ার নয়, রাজ্যের কোনও পুজোর সঙ্গেই তিনি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন না। এমনকি কোনও পুজো কমিটির সভাপতির দায়িত্বও নেবেন না তিনি।
জানা গিয়েছে, গত প্রায় তিন মাস ধরে কলেজ স্কোয়ার পুজোর উদ্যোক্তারা তাঁকে পুজোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন একটি বড় বার্তা— “পুজো দখলের সংস্কৃতি” থেকে দূরে থাকার প্রয়োজনীয়তা।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, এলাকার বিধায়ক, সাংসদ বা মন্ত্রীরা কোনও পুজোর সভাপতি হতে পারেন, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে রাজনৈতিক নেতা বা দলগুলি একের পর এক পুজোর দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেবে। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজো মানুষের, এলাকার মানুষের অংশগ্রহণেই তার ঐতিহ্য বেঁচে থাকে। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বা দখলদারির জায়গা থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনও পুজোর সভাপতি হচ্ছি না, কোনও পুজোর দায়িত্বও নিচ্ছি না। শুধু কলেজ স্কোয়ার নয়, রাজ্যের কোনও পুজোর সঙ্গেই এই ধরনের ভূমিকায় থাকব না।”
পুজোর মরসুম শুরু হওয়ার আগেই শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, এ কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি বাংলার পুজো সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার একটি বড় বার্তা? আপাতত একটাই স্পষ্ট— কলেজ স্কোয়ারে শমীক ভট্টাচার্যের সভাপতি হওয়ার জল্পনায় আপাতত পূর্ণচ্ছেদ পড়েছে।


