Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : কৌস্তুভ বাগচীর (Kaustav Bagchi) হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ব্যারাকপুরে অন্য ছবি! তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাসের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির বিজেপি কর্মীদের একাংশ। যাঁদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে প্রকাশ্যেই আপত্তি তুলেছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক, তাঁর বাড়িতেই এবার পদ্ম শিবিরের একাংশের এই উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। দলের অন্দরেই কি কোণঠাসা হচ্ছেন কৌস্তুভ? নেপথ্যে কি অর্জুন সিংয়ের রাজনৈতিক সমীকরণ? মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার বিজেপির অন্দরেই সংঘাতের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ড ঘিরেই বিতর্ক
বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার। ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী (Kaustav Bagchi) অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কয়েকজন তৃণমূল নেতা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকছেন। তাঁর আপত্তির নিশানায় ছিলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী। কৌস্তুভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে যোগ দিতে দেবেন না। এই অবস্থান জানাতে গিয়ে তিনি এমনকী দলের রাজ্য দফতরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মাহুতির হুঁশিয়ারিও দেন।
পরদিনই উত্তমের বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা
কৌস্তুভের বক্তব্যের পরদিন, মঙ্গলবার, একদল বিজেপি কর্মী মিষ্টি নিয়ে উত্তম দাসের বাড়িতে পৌঁছে যান। তাঁদের এই পদক্ষেপ কৌস্তুভের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টতই সংঘাত তৈরি করেছে। ফলে ব্যারাকপুর বিজেপির অন্দরে নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি স্থানীয় বিজেপি নেতা অহীন বসু পাল্টা কৌস্তুভকে নিশানা করে বলেন, বিধায়কের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে।
পাশাপাশি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কৌস্তুভ বাগচী নিজেও কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে এসেছেন। তাই তৃণমূল থেকে কেউ বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে আপত্তির কারণ থাকা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “রাজনীতিতে আবেগের কোনও জায়গা নেই। কংগ্রেস থেকে আসতে পারলে তৃণমূল থেকেও আসতে পারেন।”
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অর্জুন সিংয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। টিটাগড় থেকে বীজপুর পর্যন্ত তাঁর প্রভাবের কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। এই পরিস্থিতিতে কৌস্তুভের (Kaustav Bagchi) আপত্তি এবং বিজেপির একাংশের পাল্টা অবস্থান দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে উত্তম দাসের বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের যাওয়ার ঘটনায় অর্জুন সিং ও কৌস্তুভ বাগচীর মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে বিজেপির নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং কৌস্তুভের আপত্তিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার উপরই ব্যারাকপুরের রাজনীতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।


