কলকাতা: ২০২৫-এর ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে মমতার সরকার। তা সত্ত্বেও ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের’ অনুষ্ঠানে বাজিমাত করেছিল আরএসএস ঘনিষ্ঠ সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। ওই অনুষ্ঠানেই চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধোরের ঘটনায় তুমুল বিতর্ক সত্ত্বেও মোটের উপর লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান কার্যত সাকসেসফুল হয়েছিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের। এখন রাজ্যে গেরুয়া সরকার। আর সেই গীতাপাঠের সফলতাকে মাথায় রেখেই এবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে বসতে চলেছে রামকথার (Ram Katha) আসর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা।
কলকাতার অগ্রসেন সমাজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চলেছে। কর্মসূচি নিয়ে রাজ্য সরকারের অনুমতির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনাও করবেন আয়োজকরা। মুখ্যমন্ত্রীও আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা, ব্রিগেডে রামকথা (Ram Katha) পাঠ করবেন মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূট তুলসী পীঠের প্রধান। ইতিমধ্যেই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে কলকাতায় এসেছেন তুলসী পীঠের প্রতিনিধি রামচন্দ্র দাস।
সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য জমায়েতের লক্ষ্যে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন লক্ষেরও বেশি ভক্তের সমাগমের ব্যবস্থা করা হবে ব্রিগেডে। অর্থাৎ গীতাপাঠের পর এবার রামকথাকেও (Ram Katha) ঘিরে ব্রিগেডে বিশাল জনসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে।
গীতাপাঠের পর এবার রামকথা
২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই ব্রিগেডে আয়োজিত হয়েছিল ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’। তার আগে ২০২৩ সালেও একই ময়দানে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর আয়োজন হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ব্রিগেডে রামকথার (Ram Katha) আয়োজনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ব্রিগেডে ধর্মীয় কর্মসূচির পরপর আয়োজন নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে প্রস্তাবিত রামকথার অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত আয়োজন এখনও রাজ্য সরকারের অনুমতির উপর নির্ভর করছে।
আয়োজকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ব্রিগেডে এবার রামকথার আসর বসে কি না, আর বসলে সত্যিই তিন লক্ষের বেশি মানুষ সেখানে হাজির হন কি না, সেটাই দেখার।


