Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এর আগে একই আবেদন নিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) গিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে না গিয়ে তিনি সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) আবেদন করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে অভিষেক জানিয়েছেন, ডিজে মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিয়েছেন। তারপরও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না মেলায় তিনি বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর আবেদনের শুনানি আগামী ৩ অগস্ট হওয়ার কথা।
এর আগে গত ২০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছিলেন, আগে রাজ্যের কোনও সরকারি হাসপাতালে তাঁর চোখের চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। পাশাপাশি তিনি জানান, চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হোক। সেই বোর্ড যদি মনে করে বিদেশে চিকিৎসা করানো জরুরি, তাহলে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিষেকের বিদেশযাত্রার বিরোধিতা করা হয়। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে বলেন, শুধু ডিজে মামলাই নয়, আরও কয়েকটি মামলার সঙ্গেও অভিষেকের নাম জড়িত। তাই এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্তের কাজে সমস্যা হতে পারে।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ অভিষেকের রক্ষাকবচ ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল রাখলেও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। এরপর সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে না গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুর্শিদাবাদ থেকে ফেরার পথে সিঙ্গুরের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ চোখের নিচের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য একাধিকবার হায়দরাবাদ, দুবাই, সিঙ্গাপুর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। তাঁর বাঁ চোখে একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।


