কলকাতা: ফুটপাতের এক শিশুই কি বদলে দিল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনীতির মোড়? ফুটপাতে শিশুর দুধগরম আর কয়েক সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও! এই ঘটনাই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্ক। পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাতবাসী রশিদাকে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে যখন সমালোচনা তুঙ্গে, তখনই ফেসবুক লাইভে এসে বড় ঘোষণা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
মমতার কথায়, “আমি এই পরিবারটির দায়িত্ব নিতে রাজি আছি। পরিবারটি চাইলে আমি বা আমার দলের সহকর্মীরা তাঁদের থাকার ব্যবস্থা, শিশুদের পড়াশোনা ও খাবারের দায়িত্ব নেব।” তিনি (Mamata Banerjee) সাধারণ মানুষকেও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পার্ক স্ট্রিটের এক ফুটপাতবাসী!
কয়েকদিন আগে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে রশিদা নামে এক মহিলা শিশুর জন্য স্টোভে দুধ গরম করছিলেন। সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে ফুটপাতে দুধ গরম করতে নিষেধ করতে দেখা যায়। এরপরই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
বিরোধীদের অভিযোগ, অসহায় এক মায়ের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। যদিও অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছেন, কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি; ব্যস্ত রাস্তার ধারে আগুন জ্বালানো বিপজ্জনক হওয়ায় শুধু সরে যেতে বলা হয়েছিল।
রশিদার অজানা জীবনযুদ্ধ
বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে রশিদার জীবনের কঠিন বাস্তব। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ রবিবার ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, পঞ্জাবের বাসিন্দা ওই মহিলার নাম ছিল সীতা। প্রেম করে বিয়ের পর নাম হয় রশিদা। পরে স্বামী সংসার ছেড়ে চলে যান। এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর সংগ্রাম। ছেলেকে হারানোর পর মেয়ের সংসারও ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত ছোট নাতিকে নিয়ে মেয়ের ফিরে আসা, আর আশ্রয় বলতে কলকাতার একটি ফুটপাত। আজ তাঁদের জীবন চলে আবর্জনা কুড়িয়ে, কাগজ সংগ্রহ করে ও ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করে।
‘দারিদ্র্যের থেকেও বড় মানবিকতা’
লাইভে আবেগঘন সুরে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “গরিব হওয়া অপরাধ নয়। দারিদ্র্যের থেকেও মানবিকতা অনেক বড়। অসহায় মানুষের থাকার জায়গা না করে শুধু ধমক দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।” তিনি দাবি করেন, ফুটপাতবাসীদের জন্য পুনর্বাসনই হওয়া উচিত স্থায়ী সমাধান।
একটি ভাইরাল ভিডিও এখন দুই ভিন্ন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, আইন মেনে ফুটপাত মুক্ত রাখা, নাকি মাথার উপর ছাদহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো? সেই বিতর্কেই নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করল মমতার (Mamata Banerjee) আশ্রয়ের প্রস্তাব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ক্ষমতা হারানোর পর নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে এটা কি তৃণমূল হাইকমান্ডের ‘সুযোগের সদ্ব্যবহার’ না কি সত্যিই ওই মহিলার অদৃষ্টে লেখা আছে, ফুটপাতের ময়লা-খোলা আকাশের নীচে দিন যাপনের অধ্যায় শেষ হতে চলেছে? তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এক চিলতে ছাদ?


