Aaj India Desk, কলকাতা:পশ্চিমবঙ্গে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে তিনি জানান, আগামী দিনে আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলে রাজ্যে বিধায়কের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বর্তমান বিধানসভা ভবনে সকল সদস্যের বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে না বলেই সরকারের ধারণা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে সেই সংখ্যা ৪০০-রও বেশি হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন থেকেই নতুন বিধানসভা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে প্রস্তাব দেন, যে জমি এই প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একবার পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হোক।
তিনি কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তখন শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিধায়কদের গ্যালারির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বসানোর ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ভবিষ্যতে সদস্য সংখ্যা আরও বাড়লে বর্তমান ভবনে সেই ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেই মত তাঁর।
যদিও নতুন বিধানসভা তৈরির ভাবনা নতুন নয়, গত কয়েক বছর ধরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে এবার প্রথমবার বিধানসভার অধিবেশনেই আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানো হল।
এদিন বিধানসভায় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিলও পাস হয়। বিলের পক্ষে ১৬৯টি এবং বিপক্ষে ১৩টি ভোট পড়ে। ৩২ জন বিধায়ক ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে চলা আইনি বিতর্কের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে উদ্বেগজনক।
এ ছাড়াও এমএলএ হস্টেলের আধুনিকীকরণ, বিধানসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা চালু, উন্নত ক্যান্টিন এবং মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বিধানসভার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


