Aaj India Desk, কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল, বিজেপির হেভিওয়েট মুখের বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে ময়দানে নামাবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র নিজের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার কালীঘাট থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল তৃণমূল। নন্দীগ্রামে দলের হয়ে লড়বেন সঞ্চিতা প্রধান দে (Sanchita Pradhan Dey)।
শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতির ভোটের ময়দানে
৪০ বছরের সঞ্চিতা নন্দীগ্রামের বয়াল-২ এলাকার বাসিন্দা। একসময় বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন তিনি। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের জেরে যে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছিল, সেই তালিকায় সঞ্চিতার নামও ছিল। তবে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ একেবারেই নতুন নয়। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
নন্দীগ্রামের পরিচিত নেতা পবিত্র করের বুথেই সঞ্চিতার আদি বাড়ি। বর্তমানে অবশ্য পরিবার নিয়ে তমলুকে থাকেন তিনি। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম সামনে আসার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসন ফেরানোর পরীক্ষা
নন্দীগ্রাম তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। গত দুই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে এই আসনে জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও জয়ী হন তিনি। পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় বিধায়কহীন হয়ে পড়ে কেন্দ্রটি।
অন্যদিকে, রেজিনগর ও নওদা দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবীর। ফলে রেজিনগরেও উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ হবে। ফলে নন্দীগ্রামে একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার বিজেপির লড়াই, অন্যদিকে সঞ্চিতাকে সামনে রেখে আসন পুনরুদ্ধারের তৃণমূলের চেষ্টা দুই শিবিরের কাছেই এই ভোট বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। নতুন মুখ সঞ্চিতা সাধারণ ভোটারদের কতটা আস্থা অর্জন করতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


