Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে দেখা গেল লোকসভাতেও। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সর্বদলীয় বৈঠকে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের উপস্থিতি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই বদলে গেল তৃণমূল সাংসদদের আসন বিন্যাসও। সেই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, বর্তমানে মাত্র আটজন সাংসদ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন এখনও লোকসভায় প্রথম সারিতে বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মন্তব্যের পরই সংসদে নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর হয়। সেই আসনবিন্যাস অনুযায়ী অধিবেশনে এতদিন প্রথম সারিতে বসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দ্বিতীয় সারিতে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় প্রথম সারিতে বসবেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘদিন লোকসভার প্রথম সারিতে থাকা অভিষেকের এই আসন পরিবর্তন নিয়ে সোমবার মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বলেন, সংসদে এতদিন ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী বেঞ্চ ছিল। এবার নাকি নতুন একটি বিভাগ তৈরি হয়েছে, যার নাম “বিশ্বাসঘাতক বেঞ্চ”। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বেঞ্চের সামনের সারিতে বসবেন। এই ঘটনাকে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে তাঁর দাবি, তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার দাবি করলেও সেই সংযুক্তি এখনও লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন পায়নি। তৃণমূলের দায়ের করা অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদনও এখনও বিচারাধীন। এই অবস্থায় গতকাল ১৯ জুলাই তাঁদের সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই নতুন আসন বিন্যাস নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের সাংসদীয় মর্যাদা ও দলবদল-সংক্রান্ত অযোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই আসন বিন্যাস বিজেপির শরিক হিসেবে এনসিপিআই এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।


