Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান : বাড়ি থেকে দূরে প্রায় ছ’মাসের জীবন। গ্রামে ফিরতে চাইলেই নাকি দিতে হবে মোটা অঙ্কের টাকা! তার উপর ফোনে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি। একদিকে বাড়ি ফেরার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করলেন এক তৃণমূল কর্মী। বিষপানের পাশাপাশি নিজের হাতের শিরা কাটার চেষ্টা করেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুন গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। (TMC Worker Suicide Attempt)
আক্রান্ত ব্যক্তির নাম অপূর্ব দে। তিনি পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার অন্তর্গত বর্ধমান-২ ব্লকের কুড়মুন গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় গাড়িচালক অপূর্ব তৃণমূল নেতাদের গাড়ি চালাতেন। পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর উপর রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়। বিজেপির দুষ্কৃতীদের ভয়ে তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হয়। এরপর খণ্ডঘোষের শাঁকারি গ্রামে তাঁর মেসো সাগর ঘোষের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। প্রায় ছ’মাস ধরে সেখানেই ছিলেন অপূর্ব। (TMC Worker Suicide Attempt)
পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে ফোনে অপূর্বকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, দু’লক্ষ টাকা না দিলে তাঁকে আর গ্রামে কিংবা নিজের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। এমনকী প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। একদিকে বাড়ি ফেরার পথে বাধা, অন্যদিকে ব্যবসা ও আর্থিক ক্ষতির চাপ—সব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অপূর্ব। (TMC Worker Suicide Attempt)
গত শুক্রবার সকালে মানসিক অবসাদের জেরে বিষপান করেন অপূর্ব। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের হাতের শিরা কাটার চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।
তবে অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা শান্তরূপ দে। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। পাশাপাশি তিনি জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের পাশে তাঁরা রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


