কলকাতা: রাখিবন্ধন (Rakhi Bandhan) মানেই মিষ্টি সম্পর্ক, হাতে রাখি, মিষ্টিমুখ। তবে চলতি বছর ভবানীপুরে সেই চেনা ছবিতে ঢুকে পড়ল রাজনীতি, দেশপ্রেম আর বেশ খানিকটা খোলের তালে কীর্তনও!রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে রাখিবন্ধন (Rakhi Bandhan) পালনের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। সরবরাহ করা হয়েছে মোট ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫০০টি রাখি। শুধু রাখি কেনার পিছনেই খরচ হয়েছে ২ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ রাখির উৎসবে বাজেটও বেশ ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’!
শুক্রবার সকালে ভবানীপুরে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে রাখির ব্যাখ্যাও গেল খানিকটা রাজনৈতিক-দেশপ্রেমের দিকে। দেশপ্রেম, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাংলার সংগ্রামীদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই রাখি রাষ্ট্রবাদের রাখি, ভাতৃত্বের রাখি।”
এরপরই এল অনুষ্ঠানের ‘টার্নিং পয়েন্ট’। রাখির মঞ্চ (Rakhi Bandhan) থেকে সোজা পদযাত্রা। আর পদযাত্রায় শুভেন্দুর গলায় ঝুলল খোল। অর্থাৎ হাতে রাখি, গলায় খোল! ভবানীপুরে উৎসবের ফরম্যাট যেন একেবারে বদলে গেল! এরপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে পৌঁছে খোল বাজিয়ে কীর্তনেও শামিল হন তিনি (Suvendu Adhikari)। ফলে রাখিবন্ধনের সকালটা মুহূর্তে হয়ে উঠল ‘রাখি, পদযাত্রা ও কীর্তন, তিনে মিলে রাজনৈতিক প্যাকেজ’।
তবে খোলের তালে কীর্তনের পাশাপাশি বক্তব্যেও ছিল রাজনৈতিক সুর। পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, বাইরের শত্রুদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনী রয়েছে। কিন্তু দেশের ভিতরেও অনেকে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কলকাতার রাস্তায় ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এরপর ভবানীপুরের পরবর্তী গন্তব্য নজরুল মঞ্চ। সেখানে পড়ুয়া-সহ বহু মানুষের সামনে নতুন প্রজন্মকে দেশ ও রাজ্যের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বার্তা, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, জানতে হবে ভারতের অতীত, জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম সম্পর্কে। পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও কাজ করতে হবে।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের ভবানীপুরে রাখিবন্ধনের ছবিটা বেশ বিচিত্র! কোথাও রাখির (Rakhi Bandhan) হিসাব, কোথাও দেশপ্রেমের বার্তা, আর কোথাও গলায় খোল নিয়ে কীর্তন। রাখির দিনে ভাই-বোনের বাঁধন তো হলই, তার সঙ্গে রাজনীতির সুরও বেশ জোরে বেজে উঠল!


